হাসিনাকে ফেরত পর্যালোচনায় ভারত

 


খবরঃ

মানবতাবিরোধী অপরাধে শেখ হাসিনার মৃত্যুদণ্ডের পূর্ণাঙ্গ রায়ের কপি দেওয়া হয়েছে আইনজীবীদের।… তাকে দেশে ফেরত আনা নিয়েও চলছে আলোচনা। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন, শেখ হাসিনাকে ফেরত চেয়ে বাংলাদেশের পাঠানো চিঠি পেয়েছেন তারা। সেটি এখন পর্যালোচনা করে দেখা হচ্ছে। এর আগে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন জানান, ভারতকে চিঠি দেওয়া হলেও জবাব এখনো আসেনি।… (https://www.bd-pratidin.com/first-page/2025/11/27/1184567)

মন্তব্যঃ

বিগত ১৫ বছর বাংলাদেশের ক্ষমতায় থেকে সেবা করার পরও ‘দিল্লীর সেবাদাসী’ হাসিনার প্রয়োজন ভারতের নিকট এখনো ফুরায়নি। তাই তারা তাকেসহ তার সন্ত্রাসী বাহিনীকে আশ্রয় দিয়ে রেখেছে এবং তাকে দিয়ে বাংলাদেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। যদিও তাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে তারা হাসিনার সাথে তার পিতা মুজিবের মতই আচরণ করবে। মুজিব হত্যাকাণ্ডের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় ঢাকার তখনকার ভারতের রাষ্ট্রদূত সমর সেন ফুলের তোড়া নিয়ে মুজিব হত্যাকারী খন্দকার মোস্তাক-এর সাথে দেখা করে। যেখানে পুরো দেশের জনগণ পতিত হাসিনার গুম-খুনসহ বর্বরোচিত ‘জুলাই গণহত্যা’র সাক্ষী। আর গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সরকার হিসেবে হাসিনার বিচার কার্যকর ও শাস্তিদানের দায়িত্ব পাওয়া এই অন্তর্বর্তী সরকার খুনী হাসিনাকে ফেরত না দেয়ার বিষয়টি পাশ কাটিয়ে ভারতের সাথে তথাকথিত অমীমাংসীত ইস্যু সমাধানে আগ্রহী। পড়ুন, অজিত দোভাল ও ড. খলিলুর রহমানের বৈঠকে যা আলোচনা হলো। তারাও ভারতের সাথে হাসিনার মতোই নতজানু অবস্থান বজায় রেখে সকল ধরনের সম্পর্ক চালিয়ে যেতে চায়। উদাহরনস্বরূপ, তারা হাসিনার আমলে ভারতের সাথে কৃত সকল চুক্তিসমূহ বহাল রেখেছে। ড. খলিলও বাংলাদেশের সরকারের প্রতিনিধি হয়ে দেশের মানুষের আকাঙ্ক্ষার বিরুদ্ধে গিয়ে ভারতের সাথে নতজানু আচরণ  করে আসছে। 

অন্তর্বর্তী সরকারের এ আচরণের মূল কারণ হলো, ভারত হচ্ছে এ অঞ্চলে মার্কিনীদের আঞ্চলিক চৌকিদার। ভারত হচ্ছে আমেরিকা কর্তৃক চীনকে নিয়ন্ত্রণ ও ইসলামের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির অংশ। মুশরিক রাষ্ট্রটি এই অঞ্চলে ন্যাটোর আদলে তৈরি মার্কিন নেতৃত্বাধীন ‘কোয়াড’-এর সদস্য। আর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টাগণেরও এই ক্ষমতা নেই যে, তারা মার্কিনীদের চৌকিদারের স্বার্থের বিপরীত অবস্থান নেবে। তাই এই সরকারের কাছে গণহত্যার ন্যায়বিচার ও শাস্তি কার্যকর চাওয়ার চেষ্টা হচ্ছে বৃথা। তাই হাসিনার সঠিক বিচার ও শাস্তি কার্যকর করার ব্যাপারে ন্যায়বিচার পেতে হলে, এমন সরকার ব্যবস্থা লাগবে, যারা মার্কিন-ভারতের রক্তচক্ষুকে পরোয়া করবে না। একমাত্র আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা নির্দেশিত খিলাফত ব্যবস্থাই এক্ষেত্রে সমস্ত কুফর শক্তিগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম। এ ব্যবস্থাই পশ্চিমাদের বিকল্প বিশ্ব-ব্যাবস্থা তৈরি করতে সক্ষম। ইতিহাসে এব্যাবস্থা এটা করেও দেখিয়েছিল। প্রায় ১৪০০ বছর ধরে এটা নিজ ভূখন্ডে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি অন্য ভূখন্ডেও যালিমদের শাস্তি দিয়েছিল এবং সেই সকল ভূখণ্ডকে ইসলামের ছায়াতলে নিয়ে এসেছিল। আমাদের এই ভূখণ্ডও তার সাক্ষী। হযরত শাহজালাল (রহ.) অত্যাচারী গৌর গোবিন্দকে খিলাফত ব্যাবস্থা থাকাকালীন সময় সুদূর ইয়েমেন থেকে এসে তার সীমালঙ্ঘনের জন্য শাস্তি দিয়েছিলেন।

    -    মোঃ জহিরুল ইসলাম


Previous Post Next Post