খবরঃ
ঘরে-বাইরে নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ। ছিনতাই, চুরি-ডাকাতির ভয়। কখনও আবার প্রকাশ্যে চাপাতি ও অন্য দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের চলার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায় দুর্বৃত্ত। দেশের নানা প্রান্তে ভিন্ন ভিন্ন প্রেক্ষাপটে আতঙ্ক ছড়ায় বাধাহীন ‘মব’। খুন, অপহরণ, ধর্ষণ, পারিবারিক সহিংসতা, নারী নিপীড়ন, মাজারে হামলা-আগুন, কথায় কথায় ব্যস্ত সড়ক বন্ধ করে দাবি আদায় করার মতো ঘটনাবহুল বছর ২০২৫। (https://samakal.com/crime/article/331872/ঘরে-বাইরে-নিরাপত্তাহীনতা-সারাদেশে-বাধাহীন-‘মব’)
মন্তব্যঃ
অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হলো যেকোন রাষ্ট্র অস্তিত্বশীল থাকার একটি আবশ্যিক উপাদান। কোন রাষ্ট্রের সরকার ও সুসংগঠিত নিরাপত্তা বাহিনী থাকার পরও যদি কোন রাষ্ট্রের জনগণের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা দীর্ঘ সময় ধরে অনুপস্থিত থাকে তাহলে সেই রাষ্ট্র তার অস্তিত্ব হারায়; রাষ্ট্রের অবয়ব বা কঙ্কাল যতই দৃশ্যমান থাকুক না কেন। অর্থাৎ, রাষ্ট্র অস্তিত্বশীল থাকলে জনমত, বিচার ও নিরাপত্তা বাহিনী দ্বারা জনগণের নিরাপত্তা বলবৎ থাকে এবং রাষ্ট্র অস্তিত্বশীল না থাকলে জনগণের নিরাপত্তা থাকে না; ফলে তারা আইন, বিচার ও নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজের হাতে তুলে নেয়। সেই অর্থে বাংলাদেশ নামক জাতিরাষ্ট্রটি প্রকৃতপক্ষে তার অস্তিত্বের সংকটে ভুগছে। হাসিনার আমলেও একই বাস্তবতা ছিল, হাসিনার পতনের মধ্য দিয়ে শুধুমাত্র দৃশ্যপট ও খেলোয়ার পরিবর্তন হয়েছে মাত্র। হাসিনা গণজাগরণ মঞ্চের নামে মব করে ইসলামী রাজনীতির সাজে জড়িত ব্যক্তিদেরকে হত্যাযোগ্য করে তুলেছিল আর ইউনূস সরকার মব করে আনসারদের আন্দোলন দমন ও বিচারপতিদেরকে অপসারণ করে বিচারবিভাগকে দখল করেছিল। বাংলাদেশের জনগণ দীর্ঘদিন ‘রাষ্ট্রবিহীন’ অবস্থায় থাকার কারণে বৈদেশিক শত্রুরা (বিশেষত: কাফির সাম্রাজ্যবাদীরা) সেই শূন্যতা ও রাষ্ট্রহীনতার সুযোগ নিচ্ছে এবং বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থের বিরুদ্ধে নগ্নভাবে অবস্থান গ্রহণ করতে পারছে।
এই বিপদজনক পরিস্থিতি থেকে মুক্তির জন্য সমস্যার মূল কারণ (root cause) অনুসন্ধান করে গোড়া থেকে তা সমাধান করতে হবে। রাষ্ট্র গঠিত হয় জনগণের পারষ্পরিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে। জনগণ যখন কোন বিশেষ দর্শন ও মতাদর্শকে ধারণ করে এবং সেটাকে ভিত্তি ধরে জীবন পরিচালনা করতে চায় তখনই রাষ্ট্রের জন্ম হয়। শাসক বা প্রশাসন হল জনগণের সেই বোঝাপড়া ও আকাঙ্খার জিম্মাদার (custodian) মাত্র। সুতরাং, মানবজীবনের অস্তিত্ব ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে জনগণের দর্শন ও মতাদর্শের ভিত্তিতে জনগণের মধ্যে যদি কোন পারষ্পরিক বোঝাপড়া ও ঐক্য তৈরী না হয়, তাহলে নির্বাচিত কিংবা অনির্বাচিত কোন সরকারই পরিস্থিতির কোন পরিবর্তন করতে পারবে না। এর মাধ্যমে কেবল সময়ক্ষেপন হবে, মূল সমস্যা দিন দিন আরো প্রকট আকার ধারণ করবে।
মানবজীবনের অস্তিত্ব ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে বাংলাদেশের সিংহভাগ জনগোষ্ঠী ইসলামী আক্বীদাহ-তে বিশ্বাসী। তাদের মধ্যে এই আক্বীদা অনুসরণ করে জীবন ও রাষ্ট্র পরিচালনার জোড়ালো ও অবিচল আকাঙ্খা বিদ্যমান। যার কারণে, পরিপূর্ণ ইসলামী শরীয়াহ আনুসারে রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য একজন খলিফাকে বায়াত প্রদান করে তার হাতে দেশের দায়িত্বভার অর্পন করা ব্যাতীত এই ভূখন্ডে প্রকৃত অর্থে কোন রাষ্ট্র গঠন করা সম্ভব নয়। সময়ক্ষেপন করে দেশের পরিস্থিতিকে আরো জটিল না করে দেশের জনগণ ও ক্ষমতার অধিকারী ব্যক্তিবর্গের উচিত সেই কাঙ্ক্ষিত রাষ্ট্র গঠনে সহায়তা করা, যেখানে তাক্বওয়া ও ইসলামী বিচারব্যস্থার সমন্বয়ে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনী দেশে জনগণকে নি:চ্ছিদ্র অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা উপহার দিবে।
- আহমেদ রাফি
