নিজ দল ছেড়ে এমপি হওয়ার মরিয়া চেষ্টা কতটা নৈতিক?

 


খবরঃ

আগামী ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে দল ভেঙে দেওয়া বা নিজ দল ছেড়ে বড় দলে যোগ দেওয়ার প্রবণতা।… নির্বাচনের ঠিক আগমুহূর্তে এসব নেতার বড় দলে যোগ দেয়া এবং সেখানে যোগ দিয়েই সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন পাওয়াকে অনেকেই ‘এমপি হওয়ার জন্য মরিয়া প্রচেষ্টা’ হিসেবে দেখছেন। সমালোচকদের মতে, ক্ষমতার রাজনীতিতে টিকে থাকতে নীতি ও আদর্শকে পাশে সরিয়ে রাখার প্রবণতা এবার আরও প্রকাশ্যে এসেছে। এ পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে—নির্বাচনকে সামনে রেখে আদর্শ বিসর্জন দিয়ে ‘যে কোনো মূল্যে এমপি হওয়া’র এই প্রকাশ্য চেষ্টা কতটা নৈতিক? (https://dhakamail.com/politics/276455)

মন্তব্যঃ

নির্বাচনকেন্দ্রীক রাতারতি জোট গঠন, দল ছাড়া, দল বিলুপ্ত করা ইত্যাদিকে ‘সুবিধা, জেতার জন্য, কৌশল হিসেবে, সাময়িক সময়ের জন্য, ইত্যাদি নানা যুক্তিতে বৈধ করা হয়। বুদ্ধিজীবি, ধারাভাষ্যকাররা এধরণের নীতিহীনতাকে “রাজনীতিতে শেষ কথা বলতে কিছু নেই” এই নীতিতে ফেলে দিয়ে শুধু বৈধতা দিয়েই ক্ষান্ত হয় না, বরং ঠিক সময়ে ঠিক পল্টি দেয়াকে একটি রাজনৈতিক পরিপক্কতা হিসেবে তুলে ধরে। অবশ্য এই বিষয়টি যে শুধু আমাদের রাজনৈতিক ও বুদ্ধিজীবিদের দৈনতা তা নয় বরং এটাই সেকুলার রাজনীতির লক্ষ্য অর্জনের পদ্ধতি। এটার নাম “End Justifies the Means”। অর্থাৎ লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে কিনা সেটাই বড় কথা, কিভাবে হলো এটা কোন বিষয় নয়। সেকুলার রাজনীতির এই নীতির ব্যাখ্যাকারী The Prince বই এর রচয়িতা Machiavelli এর নামে এই যোগ্যতাকে Machiavellianism বলে।

সেকুলারিজমকে ভিত্তি হিসেবে নেয়ার অর্থ হলো Machiavellianism বা ‘লাভ’কে সব কিছুর উপরে স্থান দেয়াকে ‘Social Construct’ বা সামাজিক ভিত্তি বানিয়ে ফেলা। এর ফলে রাজনীতি, পরিবার, বন্ধুত্ব, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক সব কিছু থেকে নীতি আদর্শ ইত্যাদি সরে যায়। এখানে কেবল Might is Right। এই নীতিতো শাসকদের যালিম বানাবে এটা স্বাভাবিক। এমনকি এই নীতি ব্যবহার করেই যুলুম থেকে বাঁচার জন্য অসংখ্য বার রক্তের বন্যা বইয়ে দেয়া মানুষের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতাকে যুক্তিযুক্ত করা যায়। বিদেশী আধিপত্যবাদীরা দেশের সামরিক বাহিনীর অফিসারদের হত্যা করে ফেললে, কিংবা সীমান্তে পাখির মত মানুষ মারলে তবুও তাদেরকে বন্ধু বলে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলে এই নীতি। বিশ্বকে ‘জোর যার মুল্লুক তার’ এই নীতিতে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ইসলামের বিরুদ্ধে ক্রুসেডের নেতা আমেরিকার সাথে নানা কৌশলগত চুক্তি করাকে যুক্তিযুক্ত করে ফেলে এই নীতি। এই চিন্তা এমনকি মানুষের আবেগ, বিশ্বাস ধর্মকেও দলীয় স্বার্থে, কিংবা ইসলামের শত্রুদের খুশি করার লক্ষ্যে ইচ্ছামত সংজ্ঞায়িত করাকে বৈধতা দিয়ে দেয়। 

ব্যক্তি, পরিবার, সমাজ, রাষ্ট্র, পৃথিবীকে এই ধ্বংসাত্মক, অনৈতিক আদর্শ Machiavellianism থেকে বাঁচাতে হলে এই চিন্তার ধারক বাহকদেরকে নেতৃত্ব থেকে সরাতে হবে। সত্যানিষ্ঠদেরকে সকল ক্ষেত্রে নেতৃত্বে আনতে হবে। সর্বোপরি রাষ্ট্রকে এমন একটি ব্যবস্থা দ্বারা গঠন করতে হবে যা ‘সত্যানিষ্ঠতা’র ভিত্তিতে দাঁড়ানো।

খিলাফত ব্যবস্থায় সত্যানিষ্ঠতা ‘আদল’কে ব্যবস্থাগতভাবে সুরক্ষিত রাখা হয়। মুসলিমরা এই ব্যবস্থাকে বাস্তবায়ন করে যে সত্যানিষ্ঠ উপলব্ধি থেকে তা হচ্ছে, এটাই আল্লাহ্‌’র ওহী, মানুষের জন্য সর্বোত্তম পথনির্দেশ, ফলে সে আল্লাহ্‌’র নাজিলকৃত বিধান ছাড়া অন্যকিছুকে মেনে নেয় না। ইসলামি বিচার ব্যবস্থায় ধরা হয় যে প্রতিটি ব্যক্তি এখানে সত্যবাদী, ফলে মানুষের সাক্ষী সুরক্ষিত থাকে এবং এই সাক্ষ্যের ভিত্তিতে সহজেই বিচার-আচার সম্পন্ন করা যায়। কেউ যদি মিথ্যা অভিযোগ করে, এবং তা প্রমাণিত হয় তাহলে তার জন্য শাস্তির বরাদ্দ থাকে। যে ব্যক্তি আদল বা সত্যনিষ্ঠতা হারিয়ে ফেলে তাকে সাক্ষী দেয়ার অযোগ্য ঘোষণা করা হয়। ইসলামি ব্যবস্থায় খলিফা হতে বা কোন দায়িত্বশীল পদে নিয়োগ পেতে ঐ ব্যক্তির আদল বা সত্যানিষ্ঠতা থাকা বাধ্যতামূলক।

    -    মোহাম্মদ তালহা হোসেন


Previous Post Next Post