খবরঃ
অতীতের মতো এবারও জোটগতভাবে নির্বাচনে নামতে যাচ্ছে বেশ কয়েকটি রাজনৈতিক দল। তবে দল ছেড়ে বা বিলুপ্ত করে অন্য দলে যোগ দেওয়ার যে হিড়িক এবার চোখে পড়ছে, তেমনটা এর আগে আর কখনো দেখা যায়নি। (https://www.bbc.com/bengali/articles/cp39e445dxzo)
মন্তব্যঃ
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের এত ত্যাগ-তীতিক্ষার পর মানুষ পরিবর্তন চেয়েছিল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, মানুষ সেরকম কিছুই দেখছে না। বরং দেখছে একদল ক্ষমতালোভী স্বার্থপর মানুষ নিজেদের মধ্যে কিভাবে ক্ষমতা যেকোন মূল্যে কুক্ষিগত করে রাখা যায়, তারই সকল প্রচেষ্টা করছে। ছোট দলের বড় দলে যোগদানের হিড়িক। বড় দলের নিজেদের ক্ষমতায় যাওয়া যেকোন মূল্যে নিশ্চিত করতে ছোট দলের প্রার্থীর কাছে আসন ছেড়ে দেয়া। এসব কিছুই প্রমাণ করে যে ক্ষমতায় যাওয়া ছাড়া এই ধর্মনিরপেক্ষ দলগুলোর কথা এবং কাজ শুধুমাত্র লোকদেখানো। যেমন “স্বাধীনতা বিরোধী পক্ষ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা বিরোধী”- এই চিন্তাভাবনার অধিকারীরাই আজকাল মুক্তিযুদ্ধবিরোধীদের জোটসঙ্গী। মজার বিষয় তাদের মধ্যে মুক্তিযোদ্ধাও আছেন। আবার বাম ভাবাদর্শের রাজনৈতিক দল যারা পুঁজিবাদী রাজনৈতিক ধারক বাহককে প্রশ্ন করত, তারাই এখন আবার সেই সমালোচনা করা দলের জোটসঙ্গী। একদা “পরিবারতন্ত্রের” বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া প্রতিবাদী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী এখন আগের দল ছেড়ে পরিবারতন্ত্র পালন করা দলে যোগ দিয়েছেন। এসকল কিছুই আমাদের প্রমাণ করে দিচ্ছে যে “মুক্তিযুদ্ধের চেতনা”, “জুলাইয়ের চেতনা” এবং “নতুন স্বাধীনতার চেতনা” – সব চেতনা “ক্ষমতা ও লোভের চেতনা”র কাছে আত্মসমর্পণ করেছে। মূলতঃ এত এত চেতনার ভিড়ে মুখোশ পরে দাঁড়িয়ে আছে পুঁজিবাদী ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ।
এটাই স্বাভাবিক যে, ধর্মনিরপেক্ষ-পুঁজিবাদী আদর্শ বারবার ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে একদল স্বার্থপর ক্ষমতালোভীদের হাতে জনমানুষের ভাগ্য হস্তান্তর করবে। কারণ, কোন রাজনৈতিক দল যখন সত্য প্রচারে আপসহীন হতে চাইবে, লড়াই করতে চাইবে, তখন তাকে সাম্রাজ্যবাদী ও পুঁজিপতিদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে, এবং “রাষ্ট্রবিরোধী”র তকমা গায়ে লাগাতে হবে। এতে করে তাদের যে কঠিন পথ পাড়ি দিতে হবে, সেখানে পার্থিব কোন লাভের জায়গা নেই। ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের লেন্স এসব রাজনৈতিক দল বা তার ব্যক্তিবর্গকে কখনোই মৃত্যুর আগের পাওয়া না পাওয়ার হিসাবের অংশ ছাড়া আর কিছুই দেখতে দেয় না। এতে করে সে পুঁজিবাদের হাত ধরে “ক্ষমতা” আর ক্ষমতার সাথে পাওয়া অফুরন্ত সুযোগ-সুবিধাকে বাদ দিয়ে স্বাভাবিকভাবেই কঠিন পথকে বেছে নিতে পারে না। যার ফলে, অনেক আশা জাগানিয়া ধর্মনিরপেক্ষ নেতা ও তার দল জনগণকে নিয়মিতভাবে হতাশ করেছে। হালের রাজনৈতিক দল ও তাদের নেতাকর্মীরাও এর ব্যতিক্রম নয়।
সত্যিকারের কাঙ্ক্ষিত নির্লোভ এবং সত্যপ্রচারে আপসহীন জননেতা শুধুমাত্র ইসলামী আদর্শের মধ্যে দেখতে পাওয়া যায়। সমগ্র মানবজাতির আদর্শ রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ)-কে সত্যপ্রচারে আটকাতে না পেরে তাঁকে ক্ষমতা ও নারীর লোভ দেখানো হয়েছিল। তিনি উত্তর দিয়েছিলেন- “আমার এক হাতে চন্দ্র আর এক হাতে সূর্য এনে দিলেও আমি সত্য প্রচারে পিছপা হব না”। আলী (রাঃ) ও মুয়াবিয়া (রাঃ) এর মধ্যে যখন উসমান (রাঃ) এর হত্যাকারীদের বিচার নিয়ে মতানৈক্য চলছিল। তখন রোমান শাসকেরা মুয়াবিয়া (রাঃ) কে সমর্থন দিয়ে তাঁকে আলী (রাঃ)-এর বিরুদ্ধে অবস্থান করাতে চাচ্ছিল। কিন্তু মুয়াবিয়া (রাঃ) ধর্মনিরপেক্ষ শাসকদের মত ক্ষমতালোভী ছিলেন না। তিনি উত্তর দেন - "হে রোমান কুকুর! তুই যদি তোর চক্রান্ত বন্ধ না করিস এবং আমাদের এই অভ্যন্তরীণ বিবাদের সুযোগ নেয়ার চেষ্টা করিস, তবে জেনে রাখ— আমার এবং আমার ভাই আলীর মধ্যে যদি সন্ধি হয়ে যায়, তবে যে বাহিনী তোর রাজধানী কনস্টান্টিনোপল জ্বালিয়ে দেবে, আমি হবো সেই বাহিনীর অগ্রবর্তী সেনাদল। আর সেই বাহিনীর প্রধান সেনাপতি হবেন স্বয়ং আলী (রাঃ)।" (সূত্র: আল-বিদায়া ওয়ান নিহায়া, ইবনে কাসির)
এই নির্লোভ আপসহীনতার একমাত্র রহস্য হলো আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র প্রতি আনুগত্য। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্”-কে একমাত্র ভিত্তি হিসেবে ধরে রাখার মাধ্যমে ইসলামী শাসনব্যবস্থা খিলাফতই পারবে সত্যিকারের আপসহীন রাজনৈতিক নেতৃত্বকে সামনে নিয়ে আসতে- যারা সত্য প্রচারে কোন বাঁধার কাছেই মাথা নত করবে না। "হে মুমিনগণ! তোমরা ন্যায়ের উপর দৃঢ়প্রতিষ্ঠিত থাকো এবং আল্লাহ্’র ওয়াস্তে সত্য সাক্ষ্য দাও, যদিও তা তোমাদের নিজেদের কিংবা তোমাদের পিতা-মাতা বা নিকটাত্মীয়দের বিরুদ্ধেও হয়" (সূরা আন-নিসা, আয়াত: ১৩৫)
- জাবির জোহান
