নির্বাচনে ধর্মের ব্যবহারঃ টুপি, ঘোমটা দিলে কি ভোট বেশি পাওয়া যায়?

 

খবরঃ

উদারপন্থী থেকে বামপন্থী, কিংবা স্বতন্ত্র – নির্বাচনী জনসংযোগে প্রায় সবপক্ষের প্রার্থীদেরই পোশাকে পরিবর্তন চোখে পড়ার মতো। টুপি, পাঞ্জাবী, ঘোমটা হয়ে উঠেছে তাদের প্রচারণার পোশাক। যদিও সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে নির্বাচনের আগ দিয়ে পোশাক পরিবর্তনের বিষয়টিকে খুব বেশি ইতিবাচকভাবে নিচ্ছেন না ভোটারদের অনেকে। এ নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করা শাজেদুজ্জামান সৌমিক বিবিসি বাংলাকে বলেন, "এটাতো হিপোক্রেসি হয়ে গেল না?" বিষয়টিকে অনেকটা একইভাবে দেখেন নোয়াখালীর ব্যবসায়ী মোবারক। "এটা আসলে লোক দেখানোর জন্য, নির্বাচন চলে গেলে তারা আগের লেবাসে চলে যায়", বলেন তিনি।এমন কোনো প্রার্থীকে ভোট দেবেন না বলেও জানান ওই ব্যবসায়ী। ধর্মভিত্তিক দল জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ভোটের নামে 'জান্নাতের টিকিট' বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। (https://www.bbc.com/bengali/articles/cvg11plkn0zo)  

মন্তব্যঃ

নির্বাচনের পূর্বে জনসমর্থন আদায় ও ক্ষমতায় আরোহণের লক্ষ্যে জনগণের ধর্মীয় আবেগকে ব্যবহার করা ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতিবিদদের পুরোনো ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি। পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ্‌ ১৯৩৭ ও ১৯৪৫ সালের নির্বাচনে 'কারাকুল টুপি' ব্যবহার করা শুরু করে যা পরবর্তীতে জিন্নাহ টুপি নামে পরিচিতি পায়। ১৯৯১ সালের নির্বাচনে বিএনপির একটি স্লোগাণ ছিল, "লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌, ধানের শীষে বিসমিল্লাহ্‌" এবং ১৯৯৬ সালের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের স্লোগাণ ছিল, “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ্‌, নৌকার মালিক তুই আল্লাহ্‌”। এছাড়া ওমরাহ হজ্ব করে এসে শেখ হাসিনার মাথায় কালো কাপড়, লম্বা হাতার ব্লাউজ আর হাতে তসবিহ নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার কথা কারোই অজানা নয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০২৬ এর নির্বাচনী প্রচারণায় টুপি-ঘোমটার ব্যবহার সহ মদীনা মডেলে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি এবং জামায়াতের প্রার্থীদের মুখে দাড়িপাল্লায় ভোট দিলে জান্নাতের টিকিট প্রাপ্তির মত লোভনীয় স্লোগাণ শোনা যাচ্ছে।

প্রকৃতপক্ষে, এসব রাজনৈতিকগোষ্ঠী ইসলাম নয় বরং কুফর ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শে বিশ্বাসী এবং অনুসারী। পশ্চিমারাই তাদের প্রকৃত নিয়োগকর্তা। কিন্তু নিজেদের বৈধতা ও জনগণের ম্যানডেটের জন্য নির্বাচনের পূর্বে তাদেরকে জনগণের দ্বারস্থ হয়। ফলশ্রুতিতে নির্বাচনী প্রচারণায় টুপি-ঘোমটা, ধর্মীয় লেবাস ও ধর্মীয় বিভিন্ন স্লোগান ব্যবহার করে তারা ধর্মের সাথে তাদের কোনই সমস্যা নেই বলে জনগণকে আশ্বস্ত করছে এবং জনগণের ম্যানডেট আদায়ের চেষ্টা করে। অতঃপর ক্ষমতায় আসীনের পর, ধর্মনিরপেক্ষতাবাদের নীতি অনুযায়ী তারা আল্লাহ্‌ প্রদত্ত শারী‘আহ্‌ বিধানকে সমাজ ও রাষ্ট্র থেকে অপসারণ করে, নিজেরা আইন প্রণয়নের সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী হয়, কুফর ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থা ও সংবিধান বাস্তবায়ন করে এবং ঔপনিবেশিক শক্তির পরিচালিত ওয়ার অন টেরর পলিসিকে বাস্তবায়নের নামে রাজনৈতিক ইসলামের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধে অবতীর্ণ হয়। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তাআলা মুসলিমরুপী এসকল ধর্মনিরপেক্ষবাদীদের বিষয়ে বলেন, “আর যখন তারা মু‘মিনদের সাথে মিলিত হয়, তখন বলে ‘আমরা ঈমান এনেছি’ এবং যখন তাদের শয়তানদের সাথে একান্তে মিলিত হয়, তখন বলে, ‘নিশ্চয় আমরা তোমাদের সাথে আছি। আমরা তো কেবল উপহাসকারী’” [আল বাকারা, আয়াত ১৪]।

সুতরাং, মুসলিমদের এসব দ্বৈত চরিত্রের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনৈতিকগোষ্ঠীর টুপি-ঘোমটা ও প্রতারণাপূর্ণ ধর্মীয় নির্বাচনী স্লোগাণ দ্বারা বিমোহিত হলে চলবে না। যে ব্যবস্থার ভিত্তি কুফর ধর্মনিরেপক্ষতাবাদের উপর প্রতিষ্ঠিত এবং কাফির ঔপনিবেশিক শক্তির স্বার্থ রক্ষার জন্য বাস্তবায়িত সেই ব্যবস্থাকে টিকিয়ে রেখে এদেশের মুসলিমদের ইসলামী আবেগ-অনুভূতি ও সংস্কৃতিকে সুরক্ষিত করা সম্ভব নয়। এদেশের মুসলিমদের ইসলামী আবেগ-অনুভূতিকে ধারণকারী এবং ইসলামী সংবিধান ও শারীআহ্‌ আইন অনুযায়ী রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তায়ালা প্রদত্ত শাসনব্যবস্থা খিলাফত ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠার রাজনৈতিক প্রকল্পকে এগিয়ে নিতে হবে। সেই নিষ্ঠাবান রাজনৈতিক নেতৃত্ব হচ্ছে হিয*বুত তা*হ্‌রীর যারা ইতিমধ্যে কুরআন-সুন্নাহর ভিত্তিতে খিলাফত রাষ্ট্রের খসড়া সংবিধান প্রণয়ন করেছে, খিলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামভিত্তিক জীবনযাপন এবং ঔপনিবেশিক পরাশক্তিদের কর্তৃত্ব থেকে কিভাবে জনগণকে মুক্ত করা যায় তার বিস্তারিত রুপরেখা প্রদান করেছে। 

    -    কাজী তাহসিন রশীদ


Previous Post Next Post