যুক্তরাজ্যের আদলে স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ার প্রতিশ্রুতি বিএনপির



খবর: 

যুক্তরাজ্যের ‘ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস’ এর আদলে বাংলাদেশে ‘সার্বজনীন স্বাস্থ্য ব্যবস্থা’ গড়ে তোলার লক্ষ্যে স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের রূপরেখা ঘোষণা করেছে বিএনপি। মঙ্গলবার গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সাবেক স্বাস্থ্য মন্ত্রী খন্দকার মোশাররফ হোসেন এই রূপরেখা উপস্থাপন করেন। (https://bangla.bdnews24.com/politics/6067b53d6114 )

মন্তব্য:

‘ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস’ মূলত পশ্চিমাদের “Welfare state” ধারণা হতে উদ্ভূত। “Welfare state”-এর ধারণা উদ্ভূত হয় মূলত পশ্চিমা সমাজে পুঁজিবাদী বিষবৃক্ষের ফলস্বরূপ যে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য তৈরি হয় তা কমানোর চেষ্টা- যাতে জনগণ এই ব্যবস্থার বিরুদ্ধে বিদ্রোহ না করে। কিন্তু বাস্তবে পুঁজিবাদী বাজারব্যবস্থার মৌলিক কাঠামো যেমন: মালিকানার কাঠামো, মুক্ত বাজার অর্থনীতি, ইত্যাদি অক্ষুণ্ণ থাকে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৩০-এর মহামন্দার পর যুক্তরাষ্ট্রে Social Security Act চালু হয়, যা বেকার ভাতা ও পেনশন দিয়ে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। একইভাবে যুক্তরাজ্যে National Health Service প্রতিষ্ঠা জনস্বাস্থ্য নিশ্চিত করে, যাতে সামাজিক অস্থিরতা কমে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপে শ্রমিক অসন্তোষ ও আন্দোলনগুলোকে প্রশমিত করতে সামাজিক নিরাপত্তা, ন্যূনতম মজুরি, শ্রমিক অধিকার ইত্যাদি নীতিগুলোকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ফলে পুঁজিবাদী অর্থনীতি স্থিতিশীলতা পায়। কল্যাণ রাষ্ট্র দারিদ্র্য ও বৈষম্যের মূল কারণ পুঁজিবাদ পরিবর্তন করে না, বরং, কর এবং সামাজিক সেবার মাধ্যমে অর্জিত সম্পদের একটি অংশ পুনরায় জনগণের জন্য ব্যয় করা হয়। তাই, এটিকে অনেক সময় Welfare Capitalism বলা হয়, যা মূলত পুঁজিবাদ ও সমাজতন্ত্রের একটি মিশ্র রূপ। অর্থাৎ, welfare state পুঁজিবাদের বিকল্প নয়; বরং সামাজিক সুরক্ষা দিয়ে সেটিকে সংস্কার ও স্থিতিশীল রাখার একটি উপায়। এ ধরনের কল্যাণমূলক কর্মসূচি তাৎক্ষণিক উপকার দিলেও, এটি কাঠামোগত বৈষম্য দূর করে না। সুতরাং, একটি বিকল্প রাষ্ট্র ব্যবস্থার মাধ্যমেই প্রকৃত সমাধান সম্ভব- যেখানে শাসক জনগণের প্রতি জবাবদিহি এবং সর্বজনীন সেবা নিশ্চিত করতে বাধ্য। 

ইসলামী রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি অনুযায়ী রাষ্ট্র কেবল নীতিনির্ধারক নয়, বরং একটি অভিভাবকস্বরূপ প্রতিষ্ঠান- যা জনগণের মৌলিক প্রয়োজন পূরণে সরাসরি দায়বদ্ধ । এখানে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা ধনী-গরিব নির্বিশেষে সবার জন্য সমানভাবে নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব। এই দৃষ্টিভঙ্গি কোনো কার্ড, আয়সীমা, পেশা বা অঞ্চলভিত্তিক শর্ত আরোপকে  ন্যায়সঙ্গত মনে করে না, কারণ এতে নাগরিকদের মধ্যে বিভাজন সৃষ্টি হয় এবং নাগরিকরা তাদের মৌলিক সেবা প্রাপ্তিকে “সাহায্য” হিসেবে দেখা শুরু করে, অথচ এটা তাদের “অধিকার” ও  রাষ্ট্রের দায়িত্ব হচ্ছে তা পূরণ করা।

     -    আবু ইউসুফ

Previous Post Next Post