খবর:
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক অধ্যাপক দিলারা চৌধুরী বলেছেন, “বাংলাদেশ আজকে যেখানে দাঁড়িয়েছে, এটার জন্য ৭০ ভাগ দায়ী হল বাংলাদেশের আর্মি এবং ব্যুরোক্রেসি”। “বাংলাদেশের আর্মি এখন আমাদের জন্য একটা গোদের উপর বিষফোঁড়া। তাদের বাজেট কত যায় আমরা জানি না। যখন বাজেট দেওয়া হয় পার্লামেন্টে, তাদের বাজেট কিন্তু সিক্রেট। সেই বাজেট আমরা জানি না। প্রত্যেকটা বিজনেসে তারা আছে। তারা ফার্নিচার বানায়, তারা মিষ্টি বানায়, তাদের গ্যাস স্টেশন আছে, তাদের হসপিটাল আছে, তাদের ইউনিভার্সিটি আছে, কী নাই তাদের?” (https://bangla.bdnews24.com/bangladesh/21d4d4408e57 )
মন্তব্য:
সুশীল সমাজের ছদ্মাবরণে বিদেশী শত্রুরাষ্ট্রের গুপ্তচররা হল বাংলাদেশের জন্য মূল বিষফোড়া, যারা বিভিন্ন সময় তাদের সাম্রাজ্যবাদী মনিবদের স্বার্থ অনুযায়ী ‘গুপ্ত’ মিশন নিয়ে মিডিয়ার সামনে হাজির হয়ে নানান কিসিমের বক্তব্য দেয় এবং স্বার্থ হাসিল হয়ে গেলে টুপ করে গর্তে লুকায়। সাম্রাজ্যবাদীরা পেয়াজের খোসার মত বিভিন্ন লেয়ারের সুশীলদেরকে পোষে, এক লেয়ারকে ব্যবহারের পর নতুন লেয়ারকে সামনে রেখে তাদের ঘৃণ্য খেলা সাজায়।
বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী হল একটি সুশৃঙ্খল বাহিনী। এই বাহিনী সুনির্দিষ্ট নিয়ম-কানুন ও বিধিবিধান দিয়ে পরিচালিত হয়। আর এই নিয়ম-কানুন ও বিধিবিধান আসে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ যেই চিন্তা দ্বারা পরিচালিত হয় তা থেকে। অর্থাৎ, বাংলাদেশের সামরিক নীতি প্রণীত হয়েছে দেশের সংবিধানের সেকুলার ভিত্তিকে মানদন্ড ধরে এবং এই ব্যর্থ ও ভঙ্গুর সংবিধানে বর্ণিত পররাষ্ট্রনীতিকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যকে মাথায় রেখে; যার পুরো দায় মূলত বেসামরিক সরকার ও রাজনৈতিক দালালগোষ্ঠীর। ফলে, সাম্রাজ্যবাদী বৃটেন কিংবা আমেরিকার দ্বারা প্রভাবিত হয়ে কোনো সামরিক কর্মকর্তার বিতর্কিত কর্মকান্ডের দায় পুরো সামরিক বাহিনীর উপর চাপানো একটি উদ্দেশ্যমূলক ও স্বার্থান্বেষী কর্মকান্ড। এখানে, সামরিক বাহিনীকে বিষফোঁড়া বলে বেসামরিক সেকুলার দালালগোষ্ঠী ও সেকুলার সংবিধানকে দায়মুক্তি দেওয়ার অপচেষ্টা করা হচ্ছে।
সামরিক বাহিনী হল শত্রুকে ঘায়েল করার জন্য আধুনিক মারণাস্ত্রের ব্যবহারকারী মাত্র। সামরিক বাহিনীর হাতে অত্যাধুনিক যুদ্ধাস্ত্র তুলে দেওয়া সরকারের কাজ। তাছাড়া, যুদ্ধ শুধুমাত্র অস্ত্র-গোলাবারুদ দিয়ে হয় না। যুদ্ধক্ষেত্রে মোতায়েন সামরিক বাহিনীর যুদ্ধসক্ষমতার জন্য তাবু দরকার, বিশেষায়িত আসবাবপত্র দরকার। ফলে, সামরিক বাহিনীর মধ্যে নিজস্ব কারিগর ও ব্যবস্থাপনা থাকা অপরিহার্য। তাছাড়া, সামরিক বহিনীর খাবার-দাবারের সংস্থান ও প্রস্তুতের ব্যবস্থা তাদের নিজস্ব তত্বাবধানে থাকা আবশ্যক, কেননা এই খাবারের সাপ্লাই চেইন ও প্রস্তুতপ্রণালীতে শত্রু অনুপ্রবেশ করতে পারলে যুদ্ধ শুরুর আগেই আমাদের সামরিক বাহিনীকে ধ্বংস করে দিতে পারে।
শত্রুর সাথে মরণপণ লড়াইয়ে সামরিক বাহিনীর সদস্যরা যখন যখম ও রক্তাক্ত হয়, অঙ্গহানী ও পঙ্গুত্ব বরণ করে তখন তাদেরকে স্বাস্থ্য সেবা প্রদান করে দ্রুততার সাথে পুনরায় যুদ্ধক্ষেত্রে প্রেরণের জন্য সামরিক বাহিনীর নিজস্ব হাসপাতাল ও ডাক্তারের প্রয়োজন, যা highly mobile & adaptive হিসেবে সুপরিচিত। তাছাড়া, সামরিক বাহিনীর নিজস্ব প্রকৌশলী ও যন্ত্রকৌশলী থাকা দরকার, যারা যুদ্ধকালীন যেকোন ক্ষয়ক্ষতিকে দ্রুত কাটিয়ে উঠার ব্যবস্থা করতে পারে কিংবা শত্রুর বিরুদ্ধে কার্যকর প্রতিআক্রমণের ক্ষেত্র তৈরী করে দিতে পারে। যাতায়াত ও যোগাযোগের প্রচলিত ও অপ্রচলিত সকল উপায় তাদের নখদর্পনে থাকতে হয়। সামরিক কনভয় নির্দিষ্ট যুদ্ধক্ষেত্রে কিংবা এম্বুশের স্থানে যথাসময়ে পৌঁছানোর জন্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে ব্রিজ-কালভার্ট তৈরী/মেরামত কিংবা ধাবমান শত্রুবাহিনীর গতিরোধ করার জন্য পথের মধ্যে প্রতিবন্ধকতা তৈরীর জন্য সামরিক বাহিনীর ইঞ্জিনিয়ার্স ও সিগনালসকে সদা সতর্ক ও সদা প্রস্তুত থাকতে হয়।
এই পুরো বিষয়টি মাথায় রেখেই বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর বিভিন্ন ফর্মেশন ও কোর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। যুদ্ধকালীন সময়ে যারা বীরদর্পে রণাঙ্গনে ঝাঁপিয়ে পড়বে, শান্তিকালীন সময়ে তারা তাদের শিল্পকৌশল ও কারিগরি নৈপুণ্য ধরে রাখার জন্য শান্তিপূর্ণ উপায়ে সচেষ্ট থাকবে। এতে দোষের কিছু তো নেই-ই, বরং এটাই বাস্তবসম্মত করণীয়। সুতরাং, বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর উচিত তাদের দিকে অভিযোগের অন্যায্য তীর ছোড়ার দেশদ্রোহীতা-মূলক কর্মকান্ডকে চিরতরে নির্মূল করার জন্য ‘ব্যর্থ সেকুলার সংবিধানের’ কবল থেকে দেশবাসীকে মুক্ত করে খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দ্রুত অগ্রসর হওয়া। ইসলাম সামরিক বাহিনীর প্রতিটি সদস্যকে সর্বোচ্চ বীরের সম্মান প্রদান করে এবং আখিরাতে আল্লাহ্’র অনুগ্রহে তারা নবী, শহীদ ও সিদ্দীকদের সাথে পরিবার পরিজনসহ অবস্থান করবেন, ইনশা’আল্লাহ্।
- রিসাত আহমেদ