খবরঃ
দেশে পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি আর চলতে দেয়া হবে না বলে জানিয়েছেন নতুন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সাধারণ মানুষের উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে। প্রতিটি নাগরিকের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে যাতে সবাই অর্থনীতিতে অংশগ্রহণ করতে পারে এবং এর সুফল সবার কাছে পৌঁছায়। (https://bonikbarta.com/bangladesh/uQk9OasEfWRDP5eP )
মন্তব্যঃ
একজন ব্যাংকের মালিক যদি হঠাৎ বলে বসে “সুদ খাওয়া হারাম” তা যেমন শোনাবে, অনেকটা একই রকমই শোনাবে যখন পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অধীনে থাকা একজন অর্থমন্ত্রী বলবেন যে, “পৃষ্ঠপোষকতার অর্থনীতি আমরা চলতে দিতে পারি না”। কারণ পুঁজিবাদী ব্যবস্থা গণতন্ত্রের মোড়কে যতই বলুক for the people, by the people, of the people; মূলতঃ এটি পৃষ্ঠপোষক তথা পুঁজিপতি এলিটদের জন্যই তৈরি করা। যুক্তরাষ্ট্রে ২০১৪ সালে করা Testing Theories of American Politics: Elites, Interest Groups, and Average Citizens শীর্ষক গবেষণায় প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী- আমেরিকার সাধারণ মানুষের ৯০% জনমত কোনো আইনের উপর কোনো প্রভাব ফেলে না, কিন্তু শীর্ষ ১০% ধনী এবং ব্যবসায়িক গোষ্ঠীগুলোর চাওয়া প্রায় সবসময়ই আইনে পরিণত হয়। এখানে এই গবেষণা আপাতদৃষ্টিতে চমক জাগানিয়া মনে হলেও আসলে এটাই পুঁজিবাদের স্বাভাবিক পরিণতি। পুঁজিবাদী ব্যবস্থায় “জীবনের লক্ষ্য” হল জীবনকে পরিপূর্ণভাবে ভোগ করার জন্য প্রবল ধনবান হওয়া। এই ধনবান বা পুঁজিপতিরাই জীবনকে পরিপূর্ণভাবে ভোগের জন্যে প্রত্যক্ষ (সরাসরি ক্ষমতায় গিয়ে) অথবা পরোক্ষভাবে (শাসকদের পৃষ্ঠপোষক হয়ে) আইন বানানোর ক্ষমতা পেয়ে যায়। পরবর্তীতে, আইন সেভাবেই প্রণয়ন ও প্রয়োগ হয় যেভাবে পৃষ্ঠপোষক তথা পুঁজিপতিদের স্বার্থ পূরণ হয়।
তাই নতুন অর্থমন্ত্রী সত্যি সত্যি পৃষ্ঠপোষকমুক্ত হতে চাইলেও, তিনি পুঁজিবাদী কাঠামোর মধ্যে থেকে তা বাস্তবায়ন করতে পারবেন না। নিদেনপক্ষে, আঞ্চলিক পৃষ্ঠপোষকদের চেহারা পরিবর্তন হতে পারে। আর সর্বোচ্চ ভূ-রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষক হিসেবে এই ঔপনিবেশিক পুঁজিবাদী মডেলে পরাশক্তিদের কবল থেকে তিনি কিভাবে মুক্তি পাবেন?? তারাই তো বাংলাদেশের মত রাষ্ট্রগুলোর সবচেয়ে বড় পৃষ্ঠপোষক।
তাই তিনি যদি সত্যিই পৃষ্ঠপোষকদের প্রভাবমুক্ত ব্যবস্থা আনতে চান, তাহলে পৃষ্ঠপোষকদের (পুঁজিপতিদের) ফ্রেমওয়ার্ক পুঁজিবাদ থেকে বের হয়ে এসে মহান রাব্বুল আলামিন আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র ফ্রেমওয়ার্কে ঢুকতে হবে। তা হল ইসলামি ব্যবস্থা। এখানে জীবনের লক্ষ্য (পরকালে আল্লাহ্’র পুরষ্কার পাওয়া) এবং আইনের উৎস (স্রষ্টা স্বয়ং)- দুটোই স্রষ্টাকেন্দ্রিক। এতে করে এই ব্যবস্থা পৃষ্ঠপোষকদের জায়গায় তাকওয়াবানদেরকে আনে। এতে করে শাসক এবং শাসককে প্রভাবিত করতে পারা উপদেষ্টাসমূহ উভয়গোষ্ঠীই আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র আইনকে বাস্তবায়নের জন্য এক লক্ষ্যে কাজ করে। তাই পৃষ্ঠপোষকদের পলিসি থেকে পৃষ্ঠপোষকদের বের করার অসম্ভব চেষ্টা না করে, সত্যিকারের জনবান্ধব পলিসি ইসলামকে বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা আমাদের ইহকাল এবং পরকাল উভয়ই রক্ষা করতে পারব।
- জাবির জোহান
