খবরঃ
বিডিআর হত্যাকাণ্ড নিয়ে ফের কমিশন গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘কমিশন গঠনের পর পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে দেখে সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী এর বিচার করা হবে। এটা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহারেও আছে।’ সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বিভিন্ন দপ্তরের প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময়সভা শেষে এ কথা বলেন তিনি। (https://www.kalerkantho.com/online/national/2026/02/23/1651557 )
মন্তব্য:
দীর্ঘ অবহেলায় থাকা পিলখানা হত্যাকান্ডের সঠিক তদন্ত ও বিচারের জন্য জনগণের চাপে পড়ে অন্তর্বর্তী সরকার জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করে, অতঃপর সেই কমিশন দীর্ঘ তদন্তের পর ভারত, হাসিনা ও দলগতভাবে আওয়ামী লীগ এই হত্যাকান্ডে জড়িত বলে পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট প্রদান করে। এখন এর ভিত্তিতে জড়িতদের বিরুদ্ধে ‘কঠোরতম’ ব্যবস্থা গ্রহণের পরিবর্তে আবারও নতুন করে তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণায় জনমনে বিভিন্ন প্রশ্ন ও শঙ্কা দেখা দিয়েছে। “তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন: বিডিআর হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগ দলগতভাবে জড়িত” (প্রথম আলো, ১ ডিসেম্বর ২০২৫)। “তদন্ত কমিশন: বিডিআর হত্যাকাণ্ডে ভারত জড়িত” (আমার দেশ, ৩০ নভেম্বর ২০২৫)। “পিলখানা হত্যাকাণ্ড নিয়ে কমিশনের তদন্ত রিপোর্ট: হাসিনাসহ ভারতীয়রা জড়িত” (কালের কন্ঠ, ১ ডিসেম্বর ২০২৫)। ফলে, নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কর্তৃক আবারও নতুন তদন্ত কমিশন গঠনের ঘোষণায় সঙ্গত কারণেই আশংঙ্কা ও প্রশ্ন উঠে, আবারও কি আওয়ামী লীগ ও ভারতকে দায়মুক্তি দেওয়ার জন্য নতুন কোন ভাষ্য হাজির করা হবে?
সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ এবং আওয়ামী লীগ ও ভারত নিয়ে দেওয়া বিভিন্ন বক্তব্যে এই প্রশ্ন ও সন্দেহকে অমূলক বলে মনে হচ্ছে না। “ভোটে জিতে আওয়ামী লীগের অফিস খুলে দিলেন বিএনপি নেতা” (বাংলা ট্রিবিউন, ১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। “রয়টার্সকে সাক্ষাৎকার, জনগণ চাইলে শেখ হাসিনার সন্তানরা রাজনীতিতে ফিরতে পারেন: তারেক রহমান” (০৭ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬)। হাসিনার ফাঁসি ঘোষণা করে আদালতের রায় বা সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা হবে কি না এমন প্রশ্নের উত্তরে বিএনপির অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “এটি বিচার বিভাগের বিষয়”। (বিবিসি বাংলা, ১৪ ফেব্রুয়ারি ২০২৬)। কিন্তু এর পরপরই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলামকে অপসারণ করে বিএনপি তার দলীয় লোককে এই পদে বসিয়েছে! তাছাড়া, ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক কেমন হবে এই প্রশ্নের জবাবে “বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থ বিবেচনায় সব দেশের জন্য একই বৈদেশিক নীতি বজায় রাখার” মত অতি অস্পষ্ট ও ঘোলাটে বক্তব্য দিয়েছেন নতুন সরকার প্রধান; অথচ বাংলাদেশের জনগণ মন থেকে হিন্দত্ববাদি ভারতকে ঘৃণা করে ও ভারতকে শত্রুরাষ্ট্র ঘোষণার জন্য সোচ্চার।
পিলখানায় মেধাবী ও সাহসী সেনাঅফিসার ও তাদের প্রিয়জনদের উপর ঘটে যাওয়া সেই নৃশংস ও নারকীয় হত্যাযজ্ঞ এবং নির্যাতনের ঘটনা দেশের জনগণ ও সামরিক বাহিনীর সদস্যদের হৃদয়ে এক গভীর ক্ষত তৈরী করেছিল, যা এখনো বিদ্যমান। সামরিক বাহিনীর অকুতভয় ও পৌরুষদীপ্ত সদস্যদের অন্তরে এই হত্যা ও নির্যাতনের ঘটনায় প্রতিশোধের যে আগুন দীর্ঘদিন ধরে প্রজ্জলিত হয়ে আছে তা কোন আইনী মারপ্যাঁচ ও সরকারী সিস্টেমে ফেলে অবদমিত করার যেকোন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে, ইনশা’আল্লাহ্। ২০০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী এই জাতির নিষ্ঠাবান ও সাহসী রাজনৈতিক দল হিসেবে হি*যবুত তা*হ্রীর ভারতীয় ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় সর্বপ্রথম বাংলাদেশের সামরিক বাহিনীর পাশে দাঁড়িয়েছিল এবং এর ফলে দলটির উপর নেমে এসেছিল সুদীর্ঘ দেড় দশকব্যাপী জেল-জুলম ও দমন-পীড়ন। কিন্তু তা সত্যেও দলটি ভারতের ষড়যন্ত্রকে চিরতরে নিষ্ক্রিয় করার কার্যকর রূপরেখা বারবার জাতির সামনে উপস্থাপন করে গিয়েছে। ভবিষ্যতেও ভারতের যেকোন ষড়যন্ত্র মোকাবেলায় বাংলাদেশের জনগণ ও দেশের সামরিক বাহিনী হি*যবুত তা*হ্রীর-কে সবসময় তাদের পাশে পাবে। পরাক্রমশালী আল্লাহ্ আল-মুনতাক্বীম বলেন, “..এবং আল্লাহ্ তোমাদেরকে এক নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অবকাশ দেবেন। নিশ্চয়ই আল্লাহ্’র সেই নির্ধারিত সময় যখন আসবে, তখন তোমরা তা একমুহূর্তও বিলম্বিত করতে পারবে না; যদি তোমরা জানতে!” (সূরা নূহ: ০৪)।
- রিসাত আহমেদ
