খবরঃ
বাংলাদেশের নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ায় তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। একই সঙ্গে দুই দেশের বাণিজ্য ও প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে চলমান চুক্তিগুলো দ্রুত কার্যকর করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। (https://banglaaffairs.com/ট্রাম্পের-অভিনন্দন-বাণি/ )
মন্তব্যঃ
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান দায়িত্ব নেয়ার সাথে সাথে ট্রাম্পের বার্তা এসেছে, নির্বাচনের দুই দিন আগে ইউনুস সরকার কর্তৃক সাক্ষরিত বাণিজ্য চুক্তি যাতে এই সরকার বাস্তবায়ন করে। দীর্ঘদিন ধরে আমেরিকার চাওয়া প্রতিরক্ষা চুক্তি যেমন GSOMIA, ACSA দ্রুত যাতে তারেক সাহেব সাইন করে দেন। বিভিন্ন বিশ্লেষণে এটা স্পষ্ট হয়েছে যে, সদ্য সম্পন্ন বাণিজ্য চুক্তি বাংলাদেশের ‘অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব’-ই শুধু খর্ব করবে তা নয় বরং এর মাধ্যমে দেশের খাদ্য, জ্বালানী, ও শিল্প নিরাপত্তা নষ্ট হবে এবং দেশের প্রতিরক্ষা স্বাধীনতাও সীমিত হবে। এই ধরণের চুক্তি চাপিয়ে দেয়া, ট্রাম্পের মোড়লসুলভ চিঠি, রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন কর্তৃক ভারতের সাথে সম্পর্ক ভালো রাখার জোর চাহিদা ইত্যাদি স্পষ্টত ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন আমেরিকার নতুন Colonial Framework তৈরির অংশ। ১৯৪৫ সাল পরবর্তী নব্য-উপনিবেশবাদী বিশ্বব্যবস্থার পাশাপাশি ট্রাম্পের আমেরিকা এখন ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর আদলে এই নতুন Colonial Framework তৈরির কাজ করছে। এই ফ্রেমওয়ার্কে নব্য-উপনিবেশবাদী বিশ্বব্যবস্থার তথাকথিত নিয়মকানুন যেমন ‘মুক্তবাজার অর্থনীতি’, ‘রুলস বেজড অর্ডার’, ‘জাতি রাষ্ট্রগুলোর সার্বভৌমত্ব’ ইত্যাদির আর তোয়াক্কা করা হচ্ছে না। এই ফ্রেমওয়ার্কে আমেরিকা স্পষ্ট করেছে যে, তার শক্তির কারণে অন্যদেরকে তার চাওয়াকে নিজেদের স্বার্থ, নৈতিকতা, জনগণের স্বার্থ সবকিছুর উপর প্রাধান্য দিতে হবে। এখানে বিশ্বের সম্পদগুলোকে আমেরিকা আগের চেয়ে সরাসরি ও দ্রুততরভাবে এক্সেস করতে চায়, আমেরিকার ভু-রাজনৈতিক স্বার্থকে সকল নিয়মনীতি নৈতিকতার উর্ধ্বে রাখতে চায়। এ লক্ষ্য অর্জনের জন্য তারা এসব আগ্রাসী চুক্তির পাশাপাশি ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর মিলিশিয়া বাহিনীর আদলে বিশেষ ভাড়াটে বাহিনী গঠন করতে চাচ্ছে। ট্রাম্পের ‘Board of Peace’ এবং এর বাহিনী তেমনই একটি উদ্যোগ। বাংলাদেশের সেনাবাহিনীকে সেই বাহিনীতে প্রেরণের প্রতিশ্রুতি প্রদানকারী খলিলুর ইতিমধ্যে নতুন সরকারে ঢুকে পড়েছে। নব্য-উপনিবেশবাদী বিশ্বব্যবস্থায় আমাদের দেশের মত দেশের শাসকদের এতদিন কিছুটা স্পেস থাকলেও নতুন ফ্রেমওয়ার্কে আমেরিকা এখন শুধুমাত্র দ্রুত নির্দেশপালনকারী ‘নির্বাহী’ চায়। ভেনেজুয়েলা, ইরান, সিরিয়াতে ট্রাম্পের চাপপ্রয়োগে এসব পলিসি স্পষ্ট হয়েছে। মধ্যেপ্রাচ্যের অন্য মুসলিম শাসকরাসহ পাকিস্তান, ইন্দোনেশিয়ার শাসকরা ইতিমধ্যে নিজেদেরকে যোগ্য ‘নির্বাহী’তে পরিণত করছে। বাংলাদেশের নতুন সরকারের কাছেও ট্রাম্প তার চাওয়া পরিষ্কার করেছে।
কেউ কেউ বলছে, আমরা যেহেতু দুর্বল তাই আমেরিকার গোলামী করা ছাড়া উপায় নাই, তাই দেশের সরকার আমেরিকার আস্থাভাজন দক্ষ ‘নির্বাহী’ হলে ক্ষতি কি? তাদের ব্রিটিশ ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানীর পরবর্তি অবস্থার দিকে তাকানো উচিত ও বিশ্বজুড়ে চলমান আমেরিকান আগ্রাসনের দিকে তাকানো উচিত। নিশ্চিতভাবেই এটা শুধু দেশের জন্য ধ্বংসাত্বক তা নয় এটা ঐসব নির্বাহীর জন্যও ভালো নয়। ফলে এখন আমাদের অবশ্যই একটি বিকল্প ফ্রেমওয়ার্ক নিয়ে কাজ করতে হবে। আর খিলাফত হচ্ছে সেই বাস্তবসম্মত ফ্রেমওয়ার্ক যা আমাদের বিশ্বাসের সাথে যুক্ত এবং যা সেই বিশ্বাস দ্বারা পুরো মুসলিম বিশ্বকে যুক্ত করার মাধ্যমে একটি নেতৃত্বশীল শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন করে। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) বলেছেন, “ইমাম (খলিফা) হচ্ছেন ঢাল স্বরূপ, যার অধীনে তোমরা যুদ্ধ করো এবং নিজেদের রক্ষা করো” [মুসনাদ আহমদ]। একমাত্র খিলাফত রাষ্ট্রই পারবে আমেরিকার মত আগ্রাসী উপনিবেশবাদীশক্তিকে দমন করতে। উসমানী খিলাফতের সময় ১৭৯০ সালের দিকে আমেরিকা জিব্রাল্টার প্রণালী ও ভুমধ্যসাগরে জাহাজ চলাচল করানোর জন্য আলজিয়ার্স, তিউনিস ও ট্রিপলীকে বছরে ১ মিলিয়ন ডলারের সমপরিমাণ ট্যাক্স দিতো যা তৎকালীন মার্কিন ফেডারেল বাজেটের ১০-২০% ছিল।
- মোহাম্মদ তালহা হোসেন
