‘মব কালচার’ শেষ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


খবরঃ

দেশে ‘মব কালচার’ (উচ্ছৃঙ্খল জনতার সংঘবদ্ধ আক্রমণের সংস্কৃতি) পুরোপুরি বন্ধ করা হবে বলে ঘোষণা দিয়েছেন নবনিযুক্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। মন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর আজ বুধবার বিকেলে সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে প্রথম কর্মদিবসে তিনি বলেন, ‘মব কালচার শেষ। দাবি আদায়ের নামে মব কালচার করা যাবে না।… (https://www.prothomalo.com/bangladesh/sq94b7htit)

মন্তব্যঃ

মব সহিংসতায় ২০২৪ সালে ১২৮ জন ও ২০২৫ সালের ১৫৭ জন নিহত হওয়া এর ভয়াবহতার ব্যাপকতা প্রমাণ করে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রে এসকল সহিংসতায় অন্তর্বর্তী সরকারের পৃষ্ঠপোষকতার অভিযোগ রয়েছে। পড়ুন, (সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় সুশৃঙ্খল মব চলছে)। তবে এসব সহিংসতার বিস্তৃতির ক্ষেত্রে এদেশের সুদীর্ঘকাল ধরে প্রতিষ্ঠিত হওয়া শাসন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থাহীনতাও জড়িত। এর কারণ হচ্ছে বর্তমান শাসন ব্যবস্থায় শাসকগণ নিজেদের স্বার্থে  যেমন খুশি তেমন আইন তৈরি করে। আর সেই আইনের প্রয়োগটিও হয় অসম, বৈষম্যমূলক ও দীর্ঘসূত্রিতার দোষে দুষ্ট। কারণ এদেশে অপরাধের ক্ষেত্রে যারা ক্ষমতাসংশ্লিষ্ট, তারাই বেশি জড়িত থাকে। এই কারণে এখানে সিংহভাগ ক্ষেত্রেই বিচার প্রক্রিয়া শেষ করার ব্যপারে শাসকদের কোন আগ্রহ থাকে না। আমরা যেমনটি দেখেছি সাগর-রুনি কিংবা পিলখানা হত্যাকাণ্ডের বিচার প্রক্রিয়ার ক্ষেত্রে। 

নিকট ইতিহাসে এদেশের বাইরেও এই মব কালচারের ভয়াবহতা আমরা দেখেছি, ফরাসি বিপ্লবের পর বিপ্লবী গোষ্ঠী কর্তৃক গণহত্যা পরিচালিত করার সময়। যেখানে প্রায় ১৭ হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছিল গিলেটিনে চরানোসহ বিভিন্ন উপায়ে। সেই সাথে আরো অনেক মানুষকে গণহারে হত্যা করা হয়েছিল। যা ‘রেইন অফ টেরর’ নামে পরিচিত ছিলো এবং এর অবসান হয়েছিল এই গণহত্যার মূল হোতা ম্যাক্সিমিলন রোবিস্ফিয়ারের মৃত্যুদণ্ডের মাধ্যমে। তবে ‘রেইন অফ টেরর’ এর অবসান হলেও বিচার ব্যবস্থার প্রতি অনাস্থা ইউরোপ-আমেরিকাসহ সকল রাষ্ট্রে বর্তমানেও বিদ্যমান রয়েছে। পড়ুন (মব জাস্টিস কী, ইতিহাস কী বলে, কোন দেশে বেশি হয়)। বিচারহীনতার সংস্কৃতির ফলশ্রুতিতে তৈরি হওয়া এই ‘মব সহিংসতা’ তাই আজ এক বৈশ্বিক সমস্যা, যার মূলে রয়েছে ‘মানুষ মানুষের জন্য আইন তৈরি করে’।

তাই বিচারহীনতার সংস্কৃতি থেকে এই বিশ্বকে মুক্তি দিতে হলে এটাকে অসম, বৈষম্যমূলক ও পক্ষপাতদূষ্ট  মানবরচিত আইন থেকে সর্বপ্রথম মুক্তি দিয়ে মহাবিশ্বের সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা’র বিধান দিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনা করতে হবে। এই অনন্য রাষ্ট্রব্যবস্থাটির নাম খিলাফত রাষ্ট্রব্যবস্থা, যেখানে শাসকদেরকে বিচারের জন্য আলাদা মাযালিম আদালত রয়েছে। যে আদালতের বিচারক শাসকরা নিয়োগ দিলেও, শাসকের বিরুদ্ধে যখন মামলা দায়ের করা হবে, তখন তিনি বিচারকদেরকে অপসারণ করতে পারবেন না। ইসলামের ইতিহাসে আলী (রা:) থেকে শুরু করে হারুন অর রশিদসহ অনেক শাসককে বিচারকের মুখোমুখি হতে হয়েছে, যেখানে বিচারকের রায় শাসকের বিরুদ্ধে গিয়েছে এবং সে অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। তাই এই শাসন ব্যবস্থার ন্যায়-বিচার এবং জনগণের প্রতি দায়িত্বশীলতা সমাজ থেকে অপরাধকে প্রায় শূন্যের কোঠায় নামিয়ে নিয়ে এসেছিল এবং এখানে জনগণ নিরাপত্তা, সমৃদ্ধি এবং স্বচ্ছলতার সহিত জীবন যাপন করত। আমাদের এই উপমহাদেশের ৭০০ বছরের মুসলিম শাসন এর সাক্ষী। এই শাসন ব্যবস্থায় মব কালচারের মত কোন কালচার তৈরি হওয়ার প্রয়োজনও পড়ে না।

    -    মোঃ জহিরুল ইসলাম


Previous Post Next Post