খবরঃ
বাংলাদেশের নবনিযুক্ত পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ ‘ইউএস অ্যাম্বাসি ঢাকা’য় দেওয়া এক পোস্টে এ শুভেচ্ছা জানান। পোস্টে বলা হয়, পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য খলিলুর রহমানকে অভিনন্দন। আমাদের দুই দেশকে আরও নিরাপদ, শক্তিশালী ও সমৃদ্ধ করতে একসঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে পেরে আমি আনন্দিত। - রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন। (https://www.ittefaq.com.bd/776249 )
মন্তব্যঃ
পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ পাওয়ায় খলিলুর রহমানকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত অভিনন্দন জানালেও দেশের সাধারণ জনগণ এমনকি অনেক বিএনপি নেতৃবৃন্দও তার এই নিয়োগকে নেতিবাচক হিসেবেই দেখছে। ড. ইউনুসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনামলে তার জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তিকেও বিএনপি সমালোচনা করেছিল। ঐ অবস্থা থেকে একেবারে বিএনপির গড়া সরকারে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগপ্রাপ্তি প্রমাণ করে যে, তার এই নিয়োগে যতটা না বিএনপির ইচ্ছা ছিল তার চেয়ে বেশি চাপ ছিল সাম্রাজ্যবাদী শক্তির তথা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক এই খলিলুর রহমান ওরফে রজার রহমান বাংলাদেশে যাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সিদ্ধি হয় সেজন্যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে তার পদের ক্ষমতা ব্যবহার করে বিভিন্ন রকমের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। যেমন, যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থে অর্থাৎ ইন্দো-প্যাসিফিক স্ট্র্যাটেজির অংশ হিসেবে রাখাইন রাজ্যে মানবিক করিডোর প্রদানের আলোচনা, যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের কাছে বন্দর তুলে দেওয়া, গাজাতে আমেরিকার নেতৃত্বে গঠিত পিসবোর্ডে বাংলাদেশী সৈন্য পাঠাতে ইচ্ছা প্রকাশ, তার বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে তিনি সেনাবাহিনীতে গ্রুপিং এর মাধ্যমে সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড দুর্বল করে দিতে চান যাতে বিদেশী এজেন্ডা বাস্তবায়নে সেনাবাহিনী বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে, বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন আগে শুল্ক ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তি এর মধ্যে অন্যতম।
মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক তার স্বার্থ সিদ্ধির জন্য এধরনের এজেন্ট নিয়োগ করা নতুন কিছু নয়। ভেনেজুয়েলায় নিকোলাস মাদুরোকে অপহরণের পর মারিয়া কোরিনা মাচাদোকে সম্ভাব্য ক্ষমতাধর হিসেবে তৈরী করছে (অবশ্য এর পূর্বে তাকে নোবেল শান্তি পুরস্কারে ভূষিত করা হয়)। তাছাড়া মধ্যপ্রাচ্যের অনেক দেশেও আমরা এই খলিলুর রহমানের মত অনেক এজেন্টকে দেখি যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ সিদ্ধির জন্যে কাজ করতে। তবে বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি এজেন্ট নিয়োগ একটি ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ বলে মনে হচ্ছে। এর পূর্বে আমরা বিদেশী কোম্পানী কর্তৃক বাংলাদেশের তেল-গ্যাস সেক্টরে এবং অর্থনীতির অন্যান্য খাত থেকে শুরু করে সেনাবাহিনীর উপর পরোক্ষ প্রভাব বিস্তারের প্রচেষ্টা দেখলেও এবারই প্রথমবার সরকারে সরাসরি আমেরিকান এজেন্ট নিয়োগের ঘটনা ঘটল। এটি প্রমাণ করে যে বাংলাদেশের প্রশাসনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব আরো বৃদ্ধি পাচ্ছে।
খলিলুর রহমানের মত লোকদের নিয়োগ এটাই নির্দেশ করে যে আমাদের দেশে জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকারও নিজেদের মন্ত্রীসভা গঠনে স্বাধীন না। যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছায় জনগণ কর্তৃক নির্বাচিত প্রতিনিধিদের বাইরে গিয়েও তাদের ট্যাকনোক্রেট মন্ত্রী নিয়োগ দিতে হচ্ছে। যিনি আবার একইসাথে জনগণের অপছন্দের লোক। এর পূর্বে আমরা দেখেছি তারেক রহমান তার মায়ের চরম অসুস্থতার সময়েও দেশে ফিরতে পারেননি কারণ বহিঃশক্তির ইচ্ছার উপর নির্ভর করছিল তার দেশে ফেরা। অর্থাৎ এই বিষয়টি দিবালোকের মত পরিষ্কার যে, আমাদের সরকারগুলো সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের চাপের কাছে পরাধীন থাকে। ফলে, তারা চাইলেও দেশের জন্য ভাল কিছু করতে পারে না। বরং বহিঃশক্তির চাপে দেশের স্বার্থ জলাঞ্জলি দিয়ে সাম্রাজ্যবাদী শক্তির স্বার্থ নিশ্চিত করতে হয়।
আমাদের রাজনৈতিক দলগুলো যে সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের ফাঁদে পড়ে নিজেদের স্বাধীনতা এবং দেশের সার্বভৌমত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে তা থেকে উত্তরণের একমাত্র উপায় হচ্ছে পশ্চিমা বিশ্বব্যবস্থা থেকে নিজেদেরকে বিচ্ছিন্ন করে আমাদের আক্বীদা-বিশ্বাস থেকে উৎসারিত ব্যবস্থা অর্থাৎ ইসলামী ব্যবস্থা দিয়ে নিজেদেরকে পরিচালিত করা। কেবলমাত্র তখনই সাম্রাজ্যবাদী শক্তিসমূহের প্রভাব বলয় থেকে বের হয়ে নিজস্ব বিশ্বব্যবস্থা গড়ে তোলা সম্ভব। তাছাড়া কাফিরদের পদতলে থাকার ব্যাপারে মুসলিমদের রয়েছে আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা’র পক্ষ কড়া সতর্কবার্তা। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলা বলেন, “... এবং কিছুতেই আল্লাহ্ মু’মিনদের উপর কাফিরদের কর্তৃত্বের কোন পথকে মেনে নিবেন না” (সূরাঃ আন-নিসা: ১৪১)।
- মোঃ হাফিজুর রহমান
