“চাঁদা' নয় 'সমঝোতা'- সড়কমন্ত্রীর বক্তব্য কী বার্তা দিচ্ছে?”


খবরঃ

সম্প্রতি পরিবহন সেক্টরের চাঁদাবাজি নিয়ে দেয়া একটি বক্তব্যে সমালোচনার মুখে পড়েছেন বাংলাদেশের নতুন সরকারের সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।"সমঝোতার ভিত্তিতে কিছু টাকা তুললে সেটি চাঁদাবাজি নয়, বরং বাধ্য করলে সেটি চাঁদা"- সরকারের দায়িত্বশীল একজন মন্ত্রীর এমন বক্তব্য এই অপরাধকে বৈধতা দেওয়ার সামিল বলেই মনে করেন অনেকে। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ বা টিআইবি এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিবিসি বাংলাকে বলছেন, একদিকে প্রধানমন্ত্রী দুর্নীতিবিরোধী জোরালো অবস্থানের কথা বলছেন, অন্যদিকে একজন দায়িত্বশীল মন্ত্রী চাঁদাবাজিকে সরলীকরণ করছেন। সমঝোতার ভিত্তিতেই হোক আর যেভাবেই বলা হোক না কেন, সড়কে এভাবে চাঁদা নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে মনে করেন যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ এবং বুয়েটের অ্যাকসিডেন্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মো. হাদিউজ্জামান।" একদিকে সাধারণ মানুষ ট্যাক্স দিচ্ছে, অন্যদিকে সড়কে যে চাঁদা নেওয়া হচ্ছে সেটিও যাত্রী বা ভোক্তাদের কাছ থেকেই বাড়তি ভাড়া বা পণ্যের বাড়তি মূল্য দিয়ে তুলে নেওয়া হচ্ছে, এটি তো হতে পারে না," বলেন তিনি। (https://www.bbc.com/bengali/articles/c4g5e0241n3o

মন্তব্যঃ

'চাঁদা' নয় 'সমঝোতা' কিংবা চাঁদা ও চাঁদাবাজির পার্থক্য নিয়ে বিতর্কে না গিয়ে নতুন সড়কমন্ত্রীর দায়িত্ব ছিল বাংলাদেশের পরিবহন সেক্টরে প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজিকে সম্পূর্ণ নির্মূল করে (Wipe Out) কিভাবে জনভোগান্তি শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যায় সে ব্যাপারে মনোনিবেশ করা। বিগত সরকারগুলোর সময় থেকে চলে আসা এই প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজির ফলে যাত্রী ভোগান্তি, যানজট, ভাড়া নৈরাজ্য সহ বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের লাগামহীন যে মূল্যবৃদ্ধি ঘটছে তা জনস্বার্থের জন্য হুমকিস্বরুপ। মালিক-শ্রমিকদের ৯৩২ সংগঠন এখনো সড়কে বেশুমার চাঁদাবাজি করছে (বিস্তারিতঃ  https://www.bonikbarta.com/bangladesh/yTsnMZ13iU6xL6o6)। বিভিন্ন জেলা শহর থেকে ঢাকাগামী ও নিত্যপণ্যবাহী যানবাহনগুলোকে ৬ স্থানে চাঁদা দিতে হচ্ছে যা সরাসরি নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম ৩০% এরও বেশি বৃদ্ধিতে প্রভাব ফেলে। কেবল ঢাকা শহরেই ৫৩টি পরিবহন টার্মিনাল এবং স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন প্রায় আড়াই কোটি টাকা চাঁদাবাজি করা হয়, যা প্রতি মাসে প্রায় ৬৭-৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত এবং বছরে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছায়। সুতরাং, সড়কে মালিক ও শ্রমিক সমিতির অবৈধ নিয়ন্ত্রণ ও প্রাতিষ্ঠানিক চাঁদাবাজিকে নির্মূলের পরিবর্তে এটাকে সমঝোতা বলে সড়কমন্ত্রীর অদুরদর্শী ব্যাখ্যা এই নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজিকে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা ও বৈধতার পথ আরও প্রশস্ত করবে এবং পরিবহন সেক্টরকে স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠীর হাতে কুক্ষিগত করবে।

ইসলাম এমন শাসকদের ব্যাপারে সতর্ক করেছে যারা জনগণের বিষয়গুলোকে কঠিন করে তোলে এবং তাদেরকে দুর্ভোগের মধ্যে পতিত করে। ইমাম মুসলিম বর্ণনা করেছেন যে সাইয়্যেদা আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা বলেন, আমি আল্লাহর রাসূল (সা) কে বলতে শুনেছি:  "হে আল্লাহ্‌, যদি কোন অভিভাবক আমার উম্মতের দায়িত্বে থাকে এবং তাদের বিষয়গুলোকে কঠিন করে তোলে, তাহলে তুমি সেই অভিবাবকের বিষয়গুলোকেও কঠিন করে দাও, আর যদি কোন অভিভাবক আমার উম্মতের দায়িত্বে থাকে এবং তাদের বিষয়গুলোকে সহজ করে দেয়, তাহলে তার বিষয়গুলোকেও সহজ করে দাও।” (মুসলিম, আহমদ, আল-বায়হাকী এবং অন্যান্যরা বর্ণনা করেছেন)। তাই, ইসলামী রাষ্ট্র তথা খিলাফত জনগণের চাহিদা অনুযায়ী গণপরিবহনের সহজলভ্যতা নিশ্চিত করার জন্য এবং পরিবহন সেক্টরে ক্ষুদ্র পুঁজিপতিগোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণ ও লুটপাটকে মুলোৎপাটনের লক্ষ্যে রাষ্ট্র মালিকানাধীন সকল যানবাহনগুলোকে একত্রিত করে উন্নতমানের যাত্রীসেবা প্রদান করবে। ফলশ্রুতিতে পরিবহন সেক্টরে ব্যক্তিমালিকানাধীন গণপরিবহনগুলোর অশুভ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য নির্মুল হবে এবং ভাড়া নৈরাজ্য ও যাত্রী ভোগান্তি দূর হবে। খিলাফত রাষ্ট্র যেহেতু সকল নাগরিকদের অধিকার রক্ষা করবে, তাই এই রাষ্ট্রে মালিক ও শ্রমিকদের স্বার্থ রক্ষার নামে আলাদা সংগঠন প্রতিষ্ঠার কোন সুযোগ নেই বরং এগুলোকে ভেঙ্গে দেওয়া হবে। মহাসড়কে চাঁদাবাজি ইসলামী শারীআহ্‌ অনুযায়ী মহাসড়কে ডাকাতি, যার জন্য রয়েছে শুলে চড়ানো এবং হাত-পা বিপরীত দিক থেকে কেটে ফেলার মত ভয়াবহ শাস্তি। এছাড়া শারীআহ্‌ নির্ধারিত দৃষ্টিভঙ্গির সাথে দেশের পরিবহন ও যোগাযোগ বিশেষজ্ঞদের গবেষণালব্ধ জ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে আসন্ন খিলাফত রাষ্ট্র উন্নতমানের অবকাঠামো ও গণপরিবহন মডেল বাস্তবায়নের মাধ্যমে যাত্রী ও ভ্রমণপিপাসুদের জন্য পরিবহন সেক্টরকে করে তুলবে নিরাপদ ও প্রশান্তিদায়ক। তাই, দেশের জনগণের উচিত  আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা’র নাযিলকৃত বিধান অনুসারে তাদের সমস্যা সমাধানের জন্য খিলাফতের মহান প্রকল্পকে সমর্থন করা। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, "এ কোরআন তো হচ্ছে কষ্ট থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি উপায় ও নসিহত মাত্র-সে ব্যক্তির জন্য যে আল্লাহ্‌‘কে ভয় করে” ( সুরা ত্বহাঃ ৩) "।

    -    কাজী তাহসিন রশীদ 


Previous Post Next Post