খবরঃ
দেশের বাজারে আজ আবার বেড়েছে সোনার দাম। ফলে ২২ ক্যারেটের ভালো মানের সোনার দাম ভরিপ্রতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৬১ হাজার ৪১ টাকা। আগের দাম ছিল ২ লাখ ৫৮ হাজার ৮২৪ টাকা। ফলে আজ ভরিপ্রতি সোনার দাম বেড়েছে ২ হাজার ২১৭ টাকা। (https://www.prothomalo.com/business/industry/6d1o6u7ymb )
মন্তব্যঃ
দেশে সোনার দাম ভরিতে ২,২১৭ টাকায় বৃদ্ধি কেবল জুয়েলারি বাজারের বিষয় নয়; এটি পুঁজিবাদের বৈশ্বিক monetary system এবং currency market volatility-এর একটি প্রতিফলন। সোনা একটি global commodity, যার দাম সরাসরি investor confidence, speculation, এবং foreign exchange (FX) market-এর ওঠানামার ওপর নির্ভর করে। উদাহরণস্বরূপ, যুক্তরাষ্ট্র যখন অর্থনৈতিক stimulus বা quantitative easing-এর মাধ্যমে money supply বৃদ্ধি করে বা সুদের হার পরিবর্তন করে, তখন ডলারের exchange rate ওঠানামা করে। অতিরিক্ত ডলার সরবরাহ inflation expectations তৈরি করে এবং বিনিয়োগকারীরা তাদের portfolio রক্ষা করতে সোনার মতো tangible assets-এ বিনিয়োগ বাড়ায়। ২০২০ সালের COVID-19 মহামারীর সময় যুক্তরাষ্ট্রের stimulus packages এবং অতিরিক্ত fiat currency printing-এর কারণে সোনার দাম বিশ্ববাজারে নাটকীয়ভাবে বৃদ্ধি পায়। আমদানীনির্ভর দেশগুলো, যেমন বাংলাদেশ, এ পরিবর্তনের সরাসরি প্রভাব অনুভব করে, বিশেষ করে যখন টাকার মান দূর্বল হয়।
পুঁজিবাদী ফিয়াট অর্থনীতির এই অস্থিরতার বিপরীতে Islamic monetary system একটি স্থিতিশীল কাঠামো প্রদান করে। ইসলামে স্বর্ণ (Dinar) ও রৌপ্য (Dirham) প্রকৃত মুদ্রা হিসেবে ব্যবহৃত হয়। প্রতিটি মুদ্রা ইউনিট নির্দিষ্ট ওজনের স্বর্ণ বা রৌপ্যের সমতুল্য থাকে। উদাহরণস্বরূপ, এক Dinar-এর ওজন ৪.২৫ গ্রাম স্বর্ণ। মুদ্রার এই gold-backed nature বিনিময় হারকে স্থিতিশীল রাখে এবং বাজারে speculative bubbles তৈরি হওয়ার সুযোগ থাকে না। খিলাফত রাষ্ট্রের কাগজ বা ডিজিটাল নোট থাকলেও তা fully convertible হবে এবং বাস্তব ধাতব সম্পদের সঙ্গে asset-backed থাকবে।
মুসলিম বিশ্বের সব রকমের কৌশলগত সম্পদ রয়েছে এবং আমরা কারো উপর নির্ভরশীল না, বরং বাকিদের আমাদের সম্পদ প্রয়োজন। খিলাফত রাষ্ট্র আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে স্বর্ণভিত্তিক trade settlements-কে বাধ্যতামূলক করবে, তাহলে বৈদেশিক মুদ্রার ওঠানামা তার অর্থনীতিকে প্রভাবিত করতে পারবে না। মধ্যপ্রাচ্যের তেল উৎপাদনকারী দেশগুলো যদি তেলের দাম gold or stable currency pegged মূল্যে নির্ধারণ করত, তাহলে অন্যান্য দেশের ডলার বা fiat currency-এর অস্থিরতা তাদের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করতে পারত না।
পুঁজিবাদী ফিয়াট অর্থনীতিতে বিনিয়োগকারীরা বাজারে ওঠানামার সুযোগ নিয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত নেন, যা অস্থিরতা এবং financial bubbles সৃষ্টি করে। ইসলামী অর্থব্যবস্থায় যেহেতু মুদ্রার মান বাস্তব সম্পদের সঙ্গে সংযুক্ত থাকে, এবং নতুন করে মুদ্রা ইস্যুর ক্ষমতা শারিআহ্ দ্বারা নিয়ন্ত্রিত, তাই বাজারের এই ধরনের অস্থিরতা থাকেনা।
আজকের সোনার দামের বৃদ্ধি শুধু বাজারের ওঠানামা নয়; এটি fiat currency system-এর সীমাবদ্ধতা এবং global financial instability-র প্রমাণ। ইসলামী রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে gold-backed currency স্থিতিশীলতা, নিরাপত্তা, এবং controlled monetary policy নিশ্চিত করে। সোনার দামের উত্থান তাই ফিয়াট অর্থনীতির দূর্বলতা প্রকাশ করে, এবং খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ইসলামী মুদ্রা ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনার প্রয়োজনীয়তা ও কার্যকারিতা প্রদর্শন করে।
- আবু ইউসুফ