খবরঃ
সমাজে শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এবং অপরাধ দমনে ‘পুলিশিং’ বা আইনি তদারকি রাষ্ট্রের একটি অপরিহার্য দায়িত্ব। কিন্তু এই দায়িত্ব পালনের নামে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী যখন নাগরিকদের ব্যক্তিগত জীবনযাত্রা, চলাফেরা বা পোশাক-আশাকে খবরদারি শুরু করে, তখন তা ‘পুলিশিং’-এর গণ্ডি পেরিয়ে রূপ নেয় ‘মোরাল পুলিশিং’ বা নৈতিকতার খবরদারিতে। (https://www.prothomalo.com/opinion/column/pgl2gsm4gb )
মন্তব্যঃ
ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থার চিন্তার ভিত্তি হলো “স্বাধীনতা”; যেখানে মানুষ তার জীবনের সর্বোচ্চ স্বাধীনতা ভোগ করবে এবং রাষ্ট্রের দায়িত্ব এটা নিশ্চিত করা। এমতাবস্থায়, বাংলাদেশ একটা ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র কাঠামোর মধ্যে থেকে যদি কোন ব্যক্তিকে রাতে বের হতে না দেয় কিংবা গাঁজা খেতে না দেয়, তাহলে তা রাষ্ট্রের চিন্তার ভিত্তির সাথে সংঘর্ষ তৈরি করে। কিন্তু সমস্যা হল- স্বাধীনতার মাধ্যমে চলা সমাজে শুধু ব্যক্তিই ক্ষতিগ্রস্ত হয় না বরং পুরো সমাজই ক্ষতিগ্রস্ত হয়। যেমন কেউ বিনা বাঁধায় প্রকাশ্যে নেশা করছে, প্রেম করার নামে অশ্লীল আচরণ করছে ইত্যাদি আচরণগুলো সমাজে গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। এতে করে যুবসমাজের একটা বিশাল অংশ তার মেধা মননের পূর্ণ প্রয়োগ রাষ্ট্রের উন্নয়নের জন্য দিতে পারছে না। তারা ব্যক্তি স্বাধীনতার চিন্তা প্রবলভাবে ধারণ করে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছে, নয়তো যৌনতার তীব্র আকাঙ্ক্ষা থেকে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, ধর্ষণ, পর্ণ আসক্তিতে লিপ্ত হচ্ছে। ফলে ‘ব্যক্তি স্বাধীনতা’ উপভোগ করলেও তার ভুক্তভোগীতা পুরো সমাজকেই নিতে হচ্ছে। ধর্মনিরপেক্ষ ব্যবস্থায় এই জায়গাতে মোরাল পুলিশিং বা মোরালিটি চাপিয়ে দেয়ার জায়গাটা চলে আসে। যেমন গর্ভপাতের অধিকার ব্যক্তির স্বাধীনতার মধ্যে পড়লেও রাষ্ট্রের সামগ্রিক সন্তান ধারণের ক্ষমতা হ্রাস পাওয়ার আশংকা থেকে অনেক উন্নত দেশ মোরাল পুলিশিং করে এটাকে অবৈধ করে রেখেছে।
কিন্তু এখানে উপলব্ধি করা প্রয়োজন যে মোরালিটি বা নৈতিকতা কোন জীবনব্যবস্থায় প্রয়োগের বিষয় নয়, বরং তা যেকোন জীবনব্যবস্থার স্বাভাবিক ফলাফল। স্বেচ্ছাচারী যুবসমাজের নেশা করা, অশ্লীলতা করা, বাবা-মায়ের কথা না শোনা, দায়িত্ব নিতে না চাওয়া ইত্যাদি সবই ধর্মনিরপেক্ষ স্বাধীনতাভিত্তিক জীবনব্যবস্থার স্বাভাবিক ফলাফল। এটাই ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থার মোরালিটি। অন্যদিকে, আমরা যারা উল্টোটা আশা করি অর্থাৎ দায়িত্বশীলতা তা স্বাধীনতার চিন্তার সাথে পুরোপুরি সাংঘর্ষিক।
তাই আমরা যদি একটা নৈতিক সমাজ চাই, তাহলে সেই সমাজের অনৈতিকতার মূল উৎস “স্বাধীনতা” নামক ধ্বংসাত্মক চিন্তা বদলিয়ে “আল্লাহ্’র সন্তুষ্টি অর্জন” এবং “আল্লাহ্ প্রদত্ত শারী‘আহ্” কে ঐ সমাজের প্রতিটি কাজের ভিত্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। ইসলামে এই শারী‘আহ্ আইনগুলো এমনভাবে সাজানো, যার ফলাফল হিসেবে আমরা বিনয়ী, দায়িত্বশীল অর্থাৎ একটা নৈতিক নাগরিক সমাজ পাই। এটাই ইসলামী জীবনব্যবস্থার মোরালিটি। যেমন-এখানে মস্তিষ্ককে স্বাভাবিক চিন্তায় বাঁধা দেয় এরকম নেশায় যাওয়া নিষিদ্ধ। মা, স্ত্রী, বোন অথবা বাবা, স্বামী, ভাই অর্থাৎ মাহরাম ব্যতীত কারো সাথে অবাধ মেলামেশা নিষিদ্ধ। বাবা-মায়ের দায়িত্ব নিতে সন্তান সন্ততি বাধ্য। এতিমের হক নষ্ট করা নিষেধ। ওজনে কম দেয়া হারাম। জেনা করা হারাম। এরকম বিধি-নিষেধগুলো প্রতিনিয়ত পালনের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে এগুলোই মোরালিটি হিসেবে কাজ করে। এরকম নৈতিক সমাজ পেতে হলে আমাদের ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থাকে ফেলে দিয়ে ইসলামী শাসনব্যবস্থা তথা খিলাফত প্রতিষ্ঠা করতে হবে, কারণ একমাত্র খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার মাধ্যমেই আল্লাহ্’র হুকুম আহকাম রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বাস্তবায়ন সম্ভব। "তারা এমন লোক যাদেরকে আমি পৃথিবীতে ক্ষমতা দান করলে তারা সালাত কায়েম করবে, জাকাত দেবে এবং সৎকাজের আদেশ দেবে ও অসৎকাজে নিষেধ করবে..." (সুরা হজ, আয়াত ৪১)
- জাবির জোহান
