খবর:
রমজানের অনুভূতিকে বর্ণনা করার জন্য অনেক শব্দ আছে, কিন্তু সেগুলোও যথেষ্ট নয়। তবে এক দিক রয়েছে যা গ্রহণ করা কিছুটা কঠিন হতে পারে: খরচ করার জিনিসের তালিকা বাড়ছে, কিন্তু ব্যয়ের জন্য সবসময় পর্যাপ্ত অর্থ থাকে না। (https://www.thedailystar.net/youth/news/financial-constraints-student-during-ramadan-4124491)
মন্তব্য:
দুঃখজনকভাবে, পপুলার কালচারের প্রভাব হতে বর্তমানে রমজানও বাদ যায়নি। শিক্ষার্থীরা social visibility এবং peer acceptance অর্জনের একটি মাধ্যম হিসেবে বন্ধুদের সঙ্গে ইফতার পার্টি, সাহরী পার্টি আয়োজনের পরিকল্পনা করে, বিশ্ববিদ্যালয় বা ক্লাবের ইভেন্টে অংশ নেয় এবং শহরের late-night food stall বা Ramadan pop-up market-এ সময় কাটায়। এই সামাজিক চাপ এবং প্রদর্শনমূলক আচরণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে FOMO (Fear of Missing Out) তৈরি করে- যা তাদের মধ্যে অর্থনৈতিক এবং মানসিক চাপ তৈরি করে। যার কারণে তারা প্রায়ই নিজেদের সীমিত বাজেটের বাইরে খরচ করতে বাধ্য হয়। পুঁজিবাদি অর্থনীতির ভাষায় এটি scarcity এবং unlimited wants-এর একটি বাস্তব উদাহরণ: pocket money সীমিত (scarcity), কিন্তু restaurant iftar, branded sweets, café gathering, Eid shopping, এবং social media-এ peer comparison-এর মতো চাহিদাগুলো প্রায় অসীম (unlimited wants)। Capitalist market system এই চাহিদাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। restaurant promotion, “limited-time offer”, influencer-driven marketing এবং flashy packaging শিক্ষার্থীদের অবচেতনভাবে মনে করিয়ে দেয় যে তারা কিছু হারাচ্ছে। ফলে তারা বাজেটের চিন্তা বাদ দিয়ে সাধ্যের অতিরিক্ত কেনাকাটা করে এবং social comparison-এ নিজেকে ধরে রাখার চেষ্টা করে। ফলশ্রুতিতে, এসব চাপ রমজানের মূল উদ্দেশ্য আল্লাহ্’র সন্তুষ্টি অর্জনকে ব্যাহত করে।
ইসলাম এই সমস্যার সমাধান দেয় value system এর মাধ্যমে, যেখানে সর্বোচ্চ স্থান দখল করে spiritual value, অর্থাৎ আল্লাহ্’র সন্তুষ্টি অর্জন। Spiritual purpose মানুষের economic, social এবং behavioral decision-making নিয়ন্ত্রণ করে। রমজানের রোজা তার বাস্তব উদাহরণ, যেখানে মানুষ স্বেচ্ছায় সাধারণ সুবিধা থেকে বিরত থাকে শুধুমাত্র আল্লাহ্’র আদেশ মেনে। ইসলামী আ‘ক্বীদা কেবল ব্যক্তিগত নৈতিকতার স্তরে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি একটি political ideology হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত যা সমাজ ও রাষ্ট্রের কার্যক্রমকে পরিচালিত করে। Khilafah system এই আধ্যাত্মিক ভিত্তিকে বাস্তবায়িত করে। খিলাফতের অর্থনৈতিক ব্যবস্থার মাধ্যমে মানুষের মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা হবে, market- এ exploitative consumption culture বন্ধ করা হবে, এবং শিক্ষা ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর মাধ্যমে এমন একটি worldview গড়ে তোলা হবে যেখানে social interaction status competition নয়, বরং caring এর ভিত্তিতে পরিচালিত হবে।
ইতিহাসে দেখা যায়, যখন Khilafah বাস্তবে প্রতিষ্ঠিত ছিল, তখন রমজান উম্মাহ্’র জন্য ঐতিহাসিক বিজয়ের সময় ছিল। রমজানেই সংঘটিত হয়েছে Battle of Badr, মুসলিমদের প্রথম বড় বিজয়; Conquest of Makkah, যা মক্কাকে মানুষের জুলুম থেকে মুক্ত করে; এবং Conquest of Al-Andalus, যা ইউরোপে জ্ঞান, বিজ্ঞান ও সভ্যতার নতুন দিগন্ত উন্মুক্ত করে। খিলাফত রাষ্ট্রে ইসলামী আক্বীদাহ্ থেকে আসা সমাধান দ্বারা মুসলিমদের জীবনের সব ক্ষেত্র- শাসন, অর্থনীতি, সামাজিক সম্পর্ক, শিক্ষা, রাষ্ট্র-অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক নীতি-নিয়ন্ত্রিত হয়। Khilafah-র অধীনে মুসলিমরা খলিফার নেতৃত্বে আল্লাহ্’র বিধান অনুযায়ী শাসন এবং da’wah পরিচালনা করে। ফলে উম্মাহ্ কেবল নিজেকে পুনর্জাগরণ করতে সক্ষম নয়, বরং বিশ্বের অন্যান্য জাতির জন্য মুক্তির শক্তিশালী মাধ্যম হয়ে ওঠে। এই দৃষ্টিভঙ্গি স্পষ্টভাবে দেখায় যে ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ political ideology, যেখানে spiritual value থেকে societal organization এবং global impact পর্যন্ত প্রতিটি স্তর একে অপরের সাথে সংযুক্ত।
আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা বলেন "...আল্লাহ্ কোন জাতির অবস্থা ততক্ষণ পরিবর্তন করেন না, যতক্ষণ না তারা নিজেদের অবস্থা (বিশ্বাস, চিন্তা ও আবেগ সমূহ) পরিবর্তন করে.." (সুরা আর রা'দ: ১১)
- আবু ইব্রাহিম
