মার্কিন-ইসরায়েল হামলায় মধ্যপ্রাচ্য রণক্ষেত্র: ইরানে নিহত ২০১, আহত ৭৪৭

 



খবরঃ

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলায় ইরানের বিভিন্ন প্রদেশে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২০১ জনে এবং আহত হয়েছেন ৭৪৭ জন। হামলায় ইরানের সুপ্রিম লিডার আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি তার পরিবারসহ নিহত হয়েছেন। এছাড়া শনিবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় ইরানের ইসলামিক বিপ্লবী গার্ডের প্রধান জেনারেল আবদুল রহিম মৌসাভি ও দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী আজিজ নাসিরজাদেহও নিহত হয়েছেন। এই হামলার প্রেক্ষিতে মধ্যপ্রাচ্যের পুরো অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধাবস্থা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পরেছে। (https://www.dhakatimes24.com/2026/03/01/402457 )

মন্তব্যঃ

আমেরিকার সামরিক শক্তিমত্তার কারণে নয়, বরং মুসলিম ভূ-খন্ডসমূহের বিচ্ছিন্নতা ও এসকল ভূ-খন্ডের দালাল শাসকদের বিশ্বাসঘাতকতার কারণে আমেরিকা ইরানে আক্রমণ করে স্বল্প সময়ের মধ্যে বিভিন্ন টার্গেটে লক্ষ্যভেদ করতে পেরেছে। ইরান আক্রমণের প্রস্তুতি আমেরিকা কয়েক দিনের নোটিসে নেয়নি, বরং যথেষ্ঠ সময় নিয়ে আমেরিকাকে প্রস্তুতি নিতে হয়েছে। ফাইটার জেট, যুদ্ধ জাহাজ, অস্ত্র-গোলাবারুদ-জ্বালানী পরিবহন ও হামলার জন্য টার্গেটের স্বল্পদূরত্বে সুবিধাজনক স্থানে মজুদ করা এবং হামলার কমান্ড সেন্টার ও ফরওয়ার্ড এটাকিং বেইজ নিয়ে আমেরিকা প্রকাশ্যেই বেশ কয়েক সপ্তাহ ও মাসব্যাপী প্রস্তুতি নিয়েছে। ইরাক, আফগানিস্তান ও সিরিয়া আক্রমণের সময় ইরান যেভাবে মুসলিমদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে আমেরিকাকে সাহায্য করেছিল, ঠিক একইভাবে ইরান আক্রমণের সময় মুসলিমদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম তীরের দেশগুলোর দালাল শাসকরা আমেরিকাকে সাহায্য করেছে। মূলত: মুসলিম বিশ্বের দালাল শাসকগুলো হলো ক্রুসেডার আমেরিকার অনুগত নাইট টেম্পলার (knight templar), যারা কাফির পশ্চিমাদের ‘ফার্স্ট লাইন অব ডিফেন্স’ ও তাদের হয়ে মুসলিমদের বিরুদ্ধে ‘ফার্স্ট লাইন অব এ্যাটাক’ হিসেবে কাজ করছে।

মরক্কোর তাঞ্জিয়ার, রাবাত, কাসাব্লাঙ্কা ও মারাকেশ-এ মুসলিমদের প্রতিরক্ষা ব্যুহ থাকলে আমেরিকার নৌবহর জিব্লাল্টার প্রনালী পার হয়ে ভূমধ্যসাগরেই প্রবেশ করতে পারতো না। আলজিয়ার্স, তিউনিস ও ট্রিপোলি কেন্দ্রিক মুসলিমদের শক্ত প্রতিরক্ষা ব্যুহ তৈরী করলে শুধু আমেরিকা কেন, ন্যাটোসহ ইউরোপের কোন যুদ্ধজাহাজ ভূমধ্যসাগরে অবাধে চলাফেরা করতে পারতো না। মালাক্কা প্রনালী বন্ধ করে দিয়ে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়া যদি শক্ত অবস্থান গ্রহণ করত তাহলে দক্ষিন চীন সাগরে মোতায়েন মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ও সামরিক সরঞ্জাম স্থানান্তর করে ইরানের বিরুদ্ধে জড়ো করতে পারতো না। সুয়েজ খাল, বাব-এল-মানদেব ও হরমুজ প্রনালী ইউরোপ-আমেরিকার নৌবাহিনী ও সামরিক পরিবহনের জন্য বন্ধ ঘোষণা করলে আমেরিকা কিংবা ন্যাটো বাহিনীর পক্ষ্যে ইরান বা মধ্যপ্রাচ্যের কোন মুসলিম দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ প্রস্তুতি গ্রহণ করে আক্রমণ করা সামরিক ভাষায় ‘no-go’ option-এ পরিণত হত এবং আক্রমণ করার পর তাদের জীবন্ত ফিরে যাওয়া ছিল অসম্ভব। অথচ এই সকল স্থান দিয়ে অবাধে আমেরিকা তাদের যুদ্ধজাহাজগুলোকে ’বিনা অনুমতিতে’ ও ‘বিনা মাসুলে’ চলাচল করে ইরানের কাছাকাছি নিয়ে আসার সুযোগ পেয়েছে এবং পার্সিয়ান গাল্ফের পশ্চিম পারের দেশগুলোর দালাল শাসকরা তাদের ভূখন্ড ও বিমানঘাঁটিগুলো আমেরিকাকে ব্যবহার করার জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে! রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) মুসলিমদের রক্তকে পবিত্র কাবা ঘরের চেয়ে পবিত্রতর হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন; অথচ এই শাসকরূপী চতুষ্পদ পশুগুলো কি অবলীলায় নিজেদের হাত মুসলিমের পবিত্র রক্তে রঞ্জিত করছে! ‍উম্মাহ্‌’র শত্রুদের জানা উচিত যে মুসলিমের ‘রক্তের দায়’ কখনো তামাদি হয় না!

মুসলিমদের ৫০ লক্ষের অধিক সদস্যের প্রশিক্ষিত ও লড়াকু সেনাবাহিনী এবং সকল কৌশলগত বন্দর ও নৌপথ মুসলিমদের ভূখন্ডে থাকার পরও শুধুমাত্র জাতিরাষ্ট্রের আত্মঘাতি চিন্তার ভিত্তিতে বিভক্ত থাকার কারণে আমেরিকা আটলান্টিকের ওপার থেকে ‘মুসলিমদের এলাকায়’ এসে মুসলিমদের বিরুদ্ধেই যুদ্ধের ফ্রন্ট খোলার দু:সাহস দেখাতে পারছে। সামরিক ভাষায় ‘Longer the supply line, weaker the front line’, অথচ, মুসলিম বিশ্বের দালাল শাসকদের বিশ্বাসঘাতকতার উপর ভর করে সেই দুর্বল আমেরিকান ‘ফ্রন্ট লাইন’ এখন খালিদ বিন উয়ালিদ (রা.) ও আলী ইবনে আবি তালিব (রা.)-এর উত্তরসূরীদের সামনে বিষদাঁত বের করে ফঁণা তুলছে এবং কোন ‘সত্যিকারের’ প্রতিরোধ ছাড়াই মুসলিমদের রক্ত ঝরাচ্ছে! ১৯২৪ সালের ৩ মার্চ খিলাফত ব্যবস্থাকে হারিয়ে শত বছরেরও বেশী সময় ধরে ‘অভিভাবক’ ও ‘ঢাল’ শূন্য অবস্থায় থাকার পর মুসলিম উম্মাহ্‌’র এখন সময় এসেছে আবার ঘুরে দাঁড়ানোর। ইরানের দুর্বলচিত্তের শাসকরা ইসরাইল ও আমেরিকাকে পরাজিত করে ফেলবে এই দ্বিবাস্বপ্ন ত্যাগ করে বাংলাদেশের মুসলিমদের উচিত দ্রততার সাথে কাফিরদের জন্য ভীতিকর সেই মহান গৌরবময় খিলাফত রাষ্ট্রকে পুন:প্রতিষ্ঠা করার। খলিফা অতিদ্রুত দালাল শাসকদেরকে একে একে পাকড়াও করার মাধ্যমে মুসলিম উম্মাহ্‌‘কে পুনরায় ঐক্যবদ্ধ করবেন, ইসরাইলকে ১৯২৪ সালের আগের সীমানায় ফেরত পাঠাবেন এবং সম্মিলিত মুসলিম বাহিনীর মাধ্যমে সব বিষদাঁত (fang) ভেঁঙ্গে দিয়ে আমেরিকাকে আটলান্টিকের ওপারে ছুঁড়ে ফেলবেন। এবং সেদিন খুব বেশি দূরে নয়, ইনশাআল্লাহ্‌। 

    -    রিসাত আহমেদ


Previous Post Next Post