খবর:
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের প্রেক্ষাপটে আবারও নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে ইসরায়েলের প্রস্তাবিত মৃত্যুদণ্ড আইন। দেশটির পার্লামেন্টে অনুমোদিত এই বিল শুধু রাজনৈতিক বিতর্কই নয়, আন্তর্জাতিক আইন, মানবাধিকার এবং দখলদারিত্বের প্রশ্নকে সামনে এনেছে নতুনভাবে। (https://bangla.thedailystar.net/international/news-3912416 )
মন্তব্য:
ফিলিস্তিনের মুসলিম বন্দিদের জন্য অবৈধ রাষ্ট্র ইজরায়েলের বানানো আইনের ব্যাপারে জাতিসংঘ যখন বলে মৃত্যুদন্ড আইনে "যুদ্ধাপরাধ হতে পারে", তখন এর মানে কি দাঁড়ায়? এর মানে কি আরো "তদন্ত" করতে হবে? ইজরায়েলের খোদ জেলখানায় ফিলিস্তিনের বন্দি ধর্ষণ, আইনের নামে জোর পুর্বক রায় প্রদান, জেলের মধ্যেই নির্যাতন করে হত্যা, Live Telecasted Atrocity দেখার পরেও কি জাতিসংঘের সন্দেহ যে তথাকথিত "যুদ্ধাপরাধ" সুংগঠিত হয়েছে কি না?
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে জাতিসংঘ দ্রুত তদন্ত কমিশন গঠন করে এবং সম্ভাব্য যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ নথিভুক্ত করলেও, ফিলিস্তিনের গণহত্যা পরিস্থিতিতে ব্যাপক প্রাণহানি ও ধ্বংসযজ্ঞের পরেও তাদের কার্যক্রম মূলত উদ্বেগ প্রকাশ, নিন্দা বা তদন্তের আহ্বানের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। একইভাবে, ইরানে স্কুলে মার্কিন নেতৃত্বাধীন হামলার ক্ষেত্রেও জাতিসংঘ সরাসরি পদক্ষেপ না নিয়ে এটিকে শুধু “may amount to war crimes” বলে উল্লেখ করেছে। বস্তুত জাতিসংঘ কোন অত্যাচার সংগঠিত হওয়ার পরে পশ্চিমাদের মুখ রক্ষার্থে এবং মুসলিমদের ক্ষোভকে প্রশমিত করতে একটা তথাকথিত "প্রতিক্রিয়া" জানায়। জাতিসংঘের সিদ্ধান্তগুলো মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা পুঁজিবাদি রাজনৈতিক কাঠামোর দ্বারা পরিচালিত হয় এবং জাতিসংঘ তাদেরই একটা ক্লাব৷ সম্প্রতি হরমুজ প্রণালী খুলে দিতে তাদের তৎপরতা দেখলেও তা বোঝা যায়। যখন আমেরিকার ফরেন পলিসি ফেইল করে তখন জাতিসংঘ তার ব্যাক-আপ হিসেবে সেখানে হাজির হয়।
মূলত বর্তমান জাতিসংঘ হচ্ছে, খ্রিস্টান ক্রুসেডার ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলোর সেই জোটের ধারাবাহিকতা, যাদের ষড়যন্ত্রে ওসমানী খিলাফত ধ্বংস হয়েছিল এবং যার বর্তমান উদ্দেশ্য হল, জাতিরাষ্ট্রের সীমানা অখন্ড রক্ষার নামে ৫৭টি ভাগে বিভক্ত হওয়া মুসলিম ভূমিগুলোর পুনরায় (একক খিলাফত রাষ্ট্রের অধীনে) ঐক্যবদ্ধ হওয়াকে যেকোনো মূল্যে প্রতিরোধ করা। অবৈধ রাষ্ট্র ইজরায়েল জানে যে বাস্তবতা হল হাজার হাজার মুসলিম নারী, শিশু ও পুরুষদের হত্যা করলেও আমেরিকার মাউথপিস জাতিসংঘ তাকে কিছু বলবে না বরং তার জন্য আরো সময় কিনতে সাহায্য করবে, কারণ তারা সবাই আমেরিকার পুঁজিবাদি চক্রের অংশ। তাই আমাদের জাতিসংঘের মত Criminal Entity ও পশ্চিমা পুজিবাদি বিশ্বব্যাবস্থার কোন অংগসংগঠন থেকে উপকার পাবার আশা করা হবে নির্বুদ্ধিতা কারন এগুলো তাদেরই সৃষ্টি এবং তাদেরই পশ্চিমা বিশ্ব ব্যাবস্থার অংশ।
দেশের জনগণ, বিশেষ করে সামরিক বাহিনীকে মনে রাখতে হবে, পশ্চিমাদের ক্রুসেডারদের ক্লাব জাতিসংঘ নয়, বরং একটি আন্তরিক ও ন্যায়পরায়ণ রাজনৈতিক নেতৃত্ব (খিলাফত) ফিরিয়ে আনার মাধ্যমেই ফিলিস্তিনের পবিত্র ভূমিকে মুক্ত করা সম্ভব। উম্মাহ্’র অভিভাবক হিসেবে খলিফা মুসলিম ভূখন্ড, সামরিক শক্তি ও সম্পদকে ঐক্যবদ্ধ করবেন। অতঃপর অনতিবিলম্বে সামরিক অভিযান শুরু করবেন এবং ফিলিস্তিনসহ অন্যান্য সকল দখলকৃত মুসলিম ভুমিগুলোকে উদ্ধার করবেন, ইনশাআল্লাহ্। “আর তোমাদের কী হল যে, তোমরা আল্লাহ্’র রাস্তায় লড়াই করছ না! অথচ দুর্বল পুরুষ, নারী ও শিশুরা বলছে, ‘হে আমাদের রব, আমাদেরকে উদ্ধার করুন এ জনপদ থেকে যার অধিবাসীরা যালিম এবং আমাদের জন্য আপনার পক্ষ থেকে একজন অভিভাবক নির্ধারণ করুন। আর নির্ধারণ করুন আপনার পক্ষ থেকে একজন সাহায্যকারী’।” (সূরা আন-নিসা: আয়াত ৭৫)
- আবু ইউসূফ
