খবর:
রাজধানীর শাহবাগে সমলিঙ্গের বিয়ের আইনি স্বীকৃতির দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন একদল সমকামী। এ সময় পূর্বানুমতি ছাড়া এ কর্মসূচি পালন করায় পুলিশ তাদের সরিয়ে দিতে গেলে বাকবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়। …অবস্থানরত সমকামীরা এটিকে তাদের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও গণতান্ত্রিক অধিকার বলে দাবি করেন। পুলিশের অনুমতির দাবির প্রেক্ষিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নৃবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী ও বামপন্থী ছাত্ররাজনীতির সঙ্গে যুক্ত নাঈম উদ্দিন বলেন, "অনুমতির ব্যাপার তো না, সে তার মত প্রকাশ করবে। তাদের যে গণতান্ত্রিক অধিকার, তারা এখানে তাদের অধিকার নিয়ে কথা বলবে। এখানে একটা মানুষ বা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র চাইলে দাঁড়াতেই পারে।" ...একপর্যায়ে পুলিশ সেখানে একটি সম্ভাব্য হামলার গোয়েন্দা তথ্যের কথা উল্লেখ করে তাদের নিরাপত্তার স্বার্থেই সেখান থেকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। (https://thedailycampus.com/country-others/250756)
মন্তব্য:
শাহবাগে সমকামীদের অবস্থান ও পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সাম্প্রতিক চিত্রটি আমাদের সামনে একটি রূঢ় বাস্তবতা উন্মোচন করেছে। আর তা হলো, লিবারেল ডেমোক্রেসি তথাকথিত 'সংখ্যাগরিষ্ঠের আবেগের' তোয়াক্কা করে না, বরং এটি চলে তার নিজস্ব মূল্যবোধ দ্বারা। যার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি মূল্যবোধ হচ্ছে personal freedom বা 'ব্যক্তিগত স্বাধীনতা'- যা সমকামীতার জন্ম দেয়।
“ব্যক্তিগত স্বাধীনতা” ধারণাটির উৎপত্তি মূলত ইউরোপের তথাকথিত আলোকিত যুগে (Enlightenment Period)। জন লক, রুশো এবং জন স্টুয়ার্ট মিলের মতো দার্শনিকরা সৃষ্টিকর্তার পরিবর্তে ব্যক্তিকে জীবন সম্পর্কিত সকল সিদ্ধান্তের কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে। এই ব্যাক্তি স্বাধীনতার একটি বড় শাখা হলো 'যৌন স্বাধীনতা'। তথাকথিত আলোকিত যুগের পরবর্তী সময়ে পশ্চিমা মনোবিজ্ঞানী (যেমন ফ্রয়েড বা উইলহেম রাইখ) প্রচার শুরু করে যে, যৌন অবদমনই সব মানসিক সমস্যার মূল। আব্রাহাম মাসলোর মতো মনোবিজ্ঞানীরা যৌনতাকে মানুষের অস্তিত্বের জন্য খাদ্যের মতোই 'অপরিহার্য' (Physiological need) বলে প্রচার করেন। কিন্তু বাস্তবতা হলো, যৌনতা কোনো জৈবিক চাহিদা নয়, বরং প্রজনন প্রবৃত্তির বহিঃপ্রকাশ (manifestation of procreational instinct)। খাদ্য ছাড়া মানুষ মারা যায়, কিন্তু যৌনতা ছাড়া কেউ মারা যায় না। পশ্চিমা দর্শন এই সত্যকে আড়াল করে মানুষের জীবনের একমাত্র সার্থকতাকে 'অর্গাজম' বা সর্বোচ্চ যৌন তৃপ্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ করে দিয়েছে। এই দর্শনই “My Body, My Choice”, পোশাকের স্বাধীনতা, অবাধ যৌনতার স্বাধীনতা, সমকামিতা, পেডোফিলিয়া (শিশুকাম) বা পশুকামিতার মতো পাশবিক বিকৃতিগুলোকে 'ব্যক্তিগত অধিকার' হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার পথ প্রশস্ত করেছে।
তাই, 'ব্যাক্তি স্বাধীনতা'র ধারনাকে মেনে নেয়া মানে, এর গর্ভ থেকে জন্ম নেয়া সমকামীতাকেও মেনে নেয়া। এবং সাথে সাথে এর গর্ভজাত হিসেবে শিশুকামীতা, পশুকামীতাসহ অন্যান্য সকল রকমের বিকৃত আচরণকেও মেনে নেয়া। যেমনভাবে, একসময় সমাজে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশাকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হতো, কিন্তু এখন ব্যক্তি স্বাধীনতার নামে প্রেম, লিভ ইন, পতিতাবৃত্তি, soft pornography স্বাভাবিকতায় রুপ নিয়েছে। তাই, সমকামীতাকে যেমনভাবে আমরা ঘৃণা করছি, ঠিক তেমনিভাবে আমাদেরকে এর জন্মদাতা ব্যক্তি স্বাধীনতাকে ঘৃণা করতে হবে। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা বলেন "তুমি কি তাকে দেখনি, যে তার প্রবৃত্তিকে নিজের ইলাহ্রূপে গ্রহণ করেছে? তবুও কি তুমি তার যিম্মাদার হবে?" (সুরা ফুরকান: আয়াত ৪৩)।
- আবু ইউসুফ
