খবর:
জুলাই বিপ্লবী ও আধিপত্যবাদবিরোধী ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক শহীদ ওসমান হাদি হত্যা মামলার দুই আসামিকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠাতে ভারত সম্মত হয়েছে। বুধবার (৮ এপ্রিল) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। এর আগে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান নয়া দিল্লিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস. জয়শঙ্কর এবং তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস মন্ত্রী শ্রী হরদীপ পুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন।… পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, আলোচনায় উভয়পক্ষ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার গুরুত্বের ওপর জোর দেয়। ওসমান হাদির সন্দেহভাজন হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার করায় ড. খলিলুর রহমান ভারত সরকারকে ধন্যবাদ জানান। দুই দেশের মধ্যে প্রত্যর্পণ চুক্তিতে নির্ধারিত পদ্ধতি অনুসারে গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিদের বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হবে বলে উভয়পক্ষ সম্মত হয়।… (ওসমান হাদি হত্যার দুই আসামিকে ফেরত দিতে সম্মত ভারত)
মন্তব্য:
হাসিনা ও তার সহযোগিদের ১৭ বছরের জুলুমের শাসনের পর জনগণ যখন হাসিনা ও তার সহযোগীদের বিচার ও শাস্তি দাবি করেছে, সেই সময় হাসিনাকে (ভবিষ্যতে কাজে লাগানোর জন্য fallback relationship হিসেবে) ভারত আশ্রয় দিয়েছে এবং ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এমতাবস্থায় ওসমান হাদীকে যখন হত্যা করা হলো এবং তার খুনিদের ভারতে পালিয়ে যাওয়া নিশ্চিত করা হলো, তখন হাদী হত্যার মূল নেপথ্যকারী হিসেবে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহের তীর ভারতের দিকে। কারণ এ দেশের সন্ত্রাসীদের ভারতে আশ্রয় দেওয়া ও সেখানে পালিয়ে যেতে সাহায্য করা ভারতের প্রশাসন কিংবা সরকারি সহযোগিতা ছাড়া কখনোই সম্ভব না এবং বিভিন্ন সময় তা প্রমাণিতও হয়েছে।
অবশেষে, ভারত ফয়সাল করিমদের মতো ‘চুনোপুটিদের ফেরত পাঠানোর কূটনীতিকে ব্যবহার করে বাংলাদেশের জনগণের সাথে সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করছে। যদিও ভারত তার আধিপত্যবাদী কর্মকাণ্ড যেমন- সীমান্ত হত্যা, পানি আগ্রাসন, সাংস্কৃতি আগ্রাসন কিংবা অর্থনৈতিক আগ্রাসন- কোনটাই বন্ধ করেনি। এবং বিগত ১৭ বছরের অবর্ণনীয় যুলুম-নির্যাতন ও গুম-খুনের হোতা যালিম হাসিনা এবং তার সহযোগীদের ফেরত দিতে রাজি হয়নি।
বাস্তবতার নিরিখে ভারত বাংলাদেশের শত্রু রাষ্ট্র। এবং এবিষয়ে মহাবিশ্বের মালিক আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা'আলা’র নির্দেশনাও সুস্পষ্ট। তিনি (সুবহানাহু ওয়া তা'আলা) বলেন, “তুমি মানবমন্ডলীর মধ্যে ইহুদী ও মুশরিকদেরকে মুসলিমদের সাথে অধিক শক্রতা পোষণকারী পাবে…” (সূরা আল-মায়িদাঃ ৮২)। ইসলামে সুস্পষ্টভাবে শত্রুরাষ্ট্র ও সম্ভাব্য শত্রুরাষ্ট্র নির্দিষ্ট করা আছে, তাদের সাথে চুক্তি, কূটনৈতিক সম্পর্কের ধরণও নির্ধারণ করা আছে। পাশাপাশি রয়েছে মুসলিম ভূখন্ডসমূহকে একক রাষ্ট্রে পরিণত করার আভ্যন্তরীণ নীতি। তাই, কোন কিছুর বিনিময়ে ভারত কিংবা আমেরিকার মত শত্রুরাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক উন্নয়নের কোন সুযোগ নেই- হোক সেটা হাদী হত্যায় সন্দেহভাজনদের কিংবা গণহত্যাকারী হাসিনার ফেরতের বিনিময়ে। বরং, এসব হত্যাকারীদের দেশে ফিরিয়ে এনে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করা একটি ন্যায্য ও যৌক্তিক অধিকার।
এদেশের ক্ষমতাসীন যেকোন শাসক দলেরও এটা বুঝতে হবে। বিশেষ করে ৫ই আগস্ট, ২৪ ও তার পরবর্তী প্রেক্ষাপটে মানুষ যখন এদেশের ভারতীয় অনুচর হাসিনাকে ঝেঁটিয়ে বিদায় করেছে। তখন এটা হাসিনা পরবর্তী যেকোন শাসকদলের জন্যও একটা রেড লাইন। যা অতিক্রম করে ভারত কিংবা আমেরিকাসহ যেকোন আধিপত্যবাদী বা উপনিবেশবাদী স্বত্তার সাথে সম্পর্ক উন্নয়নকারীদেরকে বা তাদের দাসত্ববরণকারীদেরকে জনগণ ভালো চোখে দেখবেনা। কারণ কোনটা সম্পর্ক উন্নয়ন, আর কোনটা দাসত্ববরণ, কিংবা কোনটা “গোলামী না আজাদী” নামকাওয়াস্তে স্লোগাণ, তা এদেশের জনগণ ভালো করেই বুঝে।
- মোঃ জহিরুল ইসলাম
