‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ তরুণদের মুক্তির অনুপ্রেরণা



খবর:

তরুণ বয়স হলো স্বপ্নের বীজ বোনার শ্রেষ্ঠ সময়। কিন্তু আমাদের প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থা ও সমাজকাঠামো অধিকাংশ ক্ষেত্রে তরুণদের শেখায় কীভাবে একটি ‘ভালো চাকরি’ পাওয়া যায় এবং মাস শেষে নির্দিষ্ট বেতন পকেটে পোরা যায়। রবার্ট কিয়োসাকির কালজয়ী গ্রন্থ ‘রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড’ আমাদের এর উল্টো পিঠ দেখায়। বইটির মূল শিক্ষা-টাকার জন্য না খেটে টাকাকে নিজের জন্য খাটানোর পথ বের করা। বর্তমান বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতা ও দেশীয় প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের তরুণদের জন্য এ শিক্ষা কেবল জরুরিই নয়, বরং অপরিহার্য। (https://www.prothomalo.com/opinion/reaction/54deyhwk85)

মন্তব্য:

১৯৯৭ সালে রবার্ট কিয়োসাকির লেখা রিচ ড্যাড পুওর ড্যাড- এর মূল কথা হল পুঁজিবাদী অর্থনীতিতে বেশিরভাগ মানুষ আর্থিকভাবে শিক্ষিত ও সচেতন না থাকার কারণে আর্থিক দৈন্যতা থেকে বের হতে পারে না। তাই তরুণদের উচিৎ আর্থিকভাবে শিক্ষিত ও সচেতন হওয়া। পুঁজিবাদের ফাঁকফোকরকে ব্যবহার করে কিভাবে ধণীদের দলে নাম লেখাতে হয়, কিভাবে সবাইকে ঠকিয়ে উদ্বৃত্ত মূল্য (Surplus value) নিজের করে নিতে হয়, এবং এটাই সফলতা- এই জ্ঞানই বইটিতে দেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রশ্ন হল ১৯৯৭ সালে প্রকাশিত হওয়া বইটিকে কেন ২০২৬ সালে এসে লেখক তুলে ধরছেন এবং প্রথম আলো কেন এই প্রতিক্রিয়া ছাপাচ্ছে? যখন পুরো বিশ্বজুড়ে আমরা পুঁজিবাদের বিপক্ষে প্রবল আন্দোলন গড়ে উঠতে দেখছি। আমেরিকার ওয়াল স্ট্রিটে 1% vs 99% আন্দোলন, ফ্রান্সে ইয়েলো ভেস্ট আন্দোলন, মধ্যপ্রাচ্যে আরব বসন্ত এবং সাম্প্রতিককালে বাংলাদেশের কোটা আন্দোলন ইত্যাদি সব আন্দোলনই আমাদের চোখে আঙ্গুল দিয়ে বোঝায় যে সাধারণ মানুষ বৈষম্য সৃষ্টিকারী এই ব্যবস্থা হতে মুক্তি চাচ্ছে। পৃথিবী যখন এটা থেকে মুক্ত হতে বিকল্প ব্যবস্থা খুঁজছে তখন এধরনের নিউজ হলো এর উপর আশা সঞ্চার করার এক ব্যর্থ রাজনৈতিক কৌশল।

পশ্চিমাদের ধর্মনিরপেক্ষ-পুঁজিবাদী ব্যবস্থা ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যবাদ অর্থাৎ Individualism এর উপর ভিত্তি করে ব্যক্তিকে স্বার্থপর হতে শেখায় । তাই তারা রিচ ড্যাড পুওর ড্যাডের মত বইয়ে কিভাবে পতিত ব্যবস্থা থেকে নিজের আখের গুছিয়ে নেয়া যায় সেই শিক্ষা দেয়। কিন্তু বাংলাদেশের মত মুসলিম অধ্যুষিত অঞ্চলের মানুষদের কাছে এই শিক্ষা তাদের বিশ্বাসের সাথে সরাসরি সাংঘর্ষিক। আল্লাহ্‌ সুবহানাহু ওয়া তা‘আলা বলেন, "এবং তাদের (ধনীদের) সম্পদে প্রার্থী ও বঞ্চিতদের অধিকার রয়েছে।" (সূরা আয-যারিয়াত: ১৯)। রাসূলুল্লাহ্‌ (সাঃ) বলেছেন, "মুমিনদের পারস্পরিক ভালোবাসা, দয়া ও মমতার উদাহরণ হলো একটি দেহের মতো। দেহের কোনো একটি অঙ্গ আক্রান্ত হলে পুরো শরীর অনিদ্রা ও জ্বরে আক্রান্ত হয়" (সহীহ্‌ বুখারী ও মুসলিম)। 

তাই পশ্চিমা বিশ্বাসে লালিত-পালিত প্লাটফর্মগুলো যতই পুঁজিবাদকে গিলিয়ে দিতে চাক না কেন, এর মোড়ক ও বিস্বাদ- উভয়ই উন্মোচিত। সচেতন তরুণদের উচিৎ এই রিচ ড্যাড পুওর ড্যাডের ফাঁদে পা না দিয়ে বিশ্ববাসীর কাছে পুঁজিবাদের প্রকৃত রূপ তুলে ধরা এবং ইসলামই যে একমাত্র সামগ্রিক সমাধান যা ব্যক্তির না সমগ্র মানবজাতির সমস্যার সমাধান করে এটা বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে প্রচার করা। 

- আবির আবদুল্লাহ্‌

Previous Post Next Post