খবর:
শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, ফেসবুকে দেখতে পাই আমাকে অনেক ট্রল করা হয়। আমার খারাপ লাগে না।… (https://www.jugantor.com/national/1088661)
মন্তব্য:
আজকে ২০২৬-এ এসে ৯০ দশকের সমস্যা ও সমাধান নিয়ে কথা বললে ট্রলের শিকার হওয়াটাতো স্বাভাবিক। কারন বর্তমানে ট্রল হচ্ছে কারো অযৌক্তিক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের একটি ভাষা। তার বর্তমান প্রচেষ্টা, পরিশ্রম ও প্ল্যানিং দ্বারা ছাত্রছাত্রীদের ও অভিভাবকদের কষ্ট ও ভোগান্তি বাড়লেও শিক্ষার মূল উদ্দেশ্য অর্জিত হওয়ার কোন সুযোগ নাই। কারণ ব্রিটিশদের তৈরিকৃত কারিকুলাম ও তার লিগ্যাসি বহন করা বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থার উদ্দেশ্য হল, ‘রক্তে ভারতীয়, কিন্তু চিন্তায় ইংরেজ’, যা তাদের এক বিখ্যাত লেখক ও রাজনীতিবিদ টমাস ব্যাবিংটন ম্যাকলে তার ‘Macaulay’s Minute on Indian Education’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন। এই উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে তারা এমন শিক্ষা ব্যবস্থা আমাদের জন্য চাপিয়েছে, যা ইসলামী শিক্ষা ও দৈনন্দিন জীবনে প্রয়োজনীয় শিক্ষা- যেমন রসায়ন, গণিত, চিকিৎসা ইত্যাদিকে আলাদা করে দিয়েছে এবং কোনটাই পরিপূর্ণ নয়। এখানে চিন্তাশীল মানুষ তৈরি হওয়ার পথ বন্ধ, শুধু Exam-passer তৈরি হবে, যারা বিদেশী জ্ঞান মুখস্থ করে নিজেদেরকে এলিট ভাববে, কিন্তু প্রয়োগের সুযোগ পাবে না। সমগ্র সমাজ চাকরিমুখী হবে, কিন্তু সেই চাকরিটাও ঠিকমতো পাবে না।
এদেশে সংখ্যাগরিষ্ঠ মুসলিম জনগোষ্ঠীর বসবাস হওয়ায়, এখানে শিক্ষাব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য হওয়ার উচিৎ ছিলো নেতৃত্বশীল জাতি গঠনে এমন ব্যক্তিত্ব তৈরি করা, যারা একই সাথে ইসলামী ব্যক্তিত্ব ও জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান বিজ্ঞানে দক্ষ। শিক্ষামন্ত্রী যদি প্রকৃতপক্ষেই শিক্ষাব্যবস্থার উন্নতি করতে চান, তাহলে তাকে বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থা সম্পূর্ণ বাতিল করে ইসলামী শিক্ষাব্যবস্থা পুনরায় চালু করতে হবে। যেটি ইতিপূর্বে ইসলামিক শাসনব্যবস্থা তথা খিলাফত ব্যবস্থায় বাস্তবায়িত অবস্থায় ছিলো। সেখানে আল বিরুনী, ইবনে ফখরুদ্দীন রাজি, ইবনে হাজম প্রমুখগণের মতো অগণিত মানুষ তৈরি হয়েছিলেন যারা জ্ঞান-বিজ্ঞানে, চিন্তায় ও চারিত্রিক উৎকর্ষের দিক থেকে পৃথিবীকে নেতৃত্ব দিতেন। এই লক্ষ্যে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের জীবন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনে বিষয় শিক্ষা প্রদান করার রাষ্ট্রের বাধ্যতামূলক দায়িত্ব হিসেবে গ্রহণ করতে হবে। অন্তত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত এটি সবার জন্য বিনামূল্য প্রদান করতে হবে। রাষ্ট্রের সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে যেন সবাই বিনামূল্যে উচ্চতর শিক্ষাও গ্রহণ করতে পারে। সেই সাথে একমাত্র রাষ্ট্রপ্রণিত শিক্ষা পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম (যেখানে ইসলামী শিক্ষা ও জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় শিক্ষার জন্য সমান সময় ব্যায় করা হবে) অনুমোদন করতে হবে এবং অন্য কোন পাঠ্যক্রম অনুযায়ী শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করতে হবে। যেখানে exam passer তৈরি হওয়ার পরিবর্তে বাস্তব প্রয়োগিক জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ মানুষজন তৈরি হবে। বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রমে শিক্ষক ও শিক্ষার্থী উভয় ক্ষেত্রেই নারী-পুরুষের মেলামেশাকে বন্ধ করতে হবে। এছাড়া যেকোন বিদ্যালয় কোন ধর্ম, গোত্র বা বর্ণের লোকদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকতে পারবে না। রাষ্ট্রকে বিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরে যথেষ্ট পরিমাণ পাঠাগার ও পরীক্ষারগারসহ জ্ঞান বৃদ্ধির সুবিধা সমূহের ব্যবস্থা করতে হবে, যাতে করে যারা ফিকহ, হাদিস, তাফসীর, চিকিৎসা, প্রকৌশল, রসায়নবিদ্যা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয়ে গবেষণা অব্যাহত রাখতে চায়, তারা যেন তা করতে পারে। রাষ্ট্রের মধ্যে প্রচুর পরিমাণে মুজতাহিদ, সৃজনশীল বিজ্ঞানী ও আবিষ্কারক তৈরি করার লক্ষ্য নিয়ে এটি করতে হবে। আর শিক্ষার সকল স্তরে অবশ্যই ইসলামী সংস্কৃতি শিক্ষা দিতে হবে। এভাবে ইসলামী ব্যক্তিত্ব গঠনের ও জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় জ্ঞান-বিজ্ঞানে দক্ষ জনগোষ্ঠী যখন তৈরির রাস্তা উন্মুক্ত হবে, তখন তিনি প্রকৃতপক্ষেই সন্মানিত হবেন।
- মোঃ জহিরুল ইসলাম
