খবর:
২০২৫ সালের ডিসেম্বরে অস্ট্রেলিয়া বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের নিচে শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার নিষিদ্ধ করে। আরও কয়েকটি দেশ একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা আরোপ করছে বা বিবেচনা করছে। বিশ্বজুড়ে এই প্রবণতা দ্রুত জনপ্রিয়তা পাওয়ায় একটি প্রশ্ন সামনে আসে-বাংলাদেশে যদি তরুণ ব্যবহারকারীদের জন্য একই ধরনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম নিষেধাজ্ঞা চালু করা হয়, তাহলে সেটি কেমন হবে? (https://www.thedailystar.net/rising-stars/news/social-media-ban-young-users-what-would-it-look-the-context-bangladesh-4144966)
মন্তব্য:
কেবলমাত্র সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্ম বন্ধ করার মাধ্যমে বাস্তবসম্মত ও দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান অর্জন করা সম্ভব নয়, যদি না সেই মৌলিক চিন্তাগুলোকে পরিবর্তন করা হয়, যার কারণে শিশু থেকে প্রাপ্তবয়স্ক পর্যন্ত সকলেই আসক্ত হয়ে পড়ছে। এই সমস্যার মূল উৎস নিহিত রয়েছে, পশ্চিমা জীবনদর্শন হতে উৎসারিত hedonism (ভোগবাদ)-এ, যেখানে মানুষের জীবনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে pleasure seeking (আনন্দ অনুসন্ধান)। এর ফলশ্রুতিতে moral, spiritual এবং humanitarian সব values ধীরে ধীরে গুরুত্ব হারায় এবং “কোনটি আমাকে অধিক সুখ প্রদান করবে”- এই মানদণ্ডই সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রধান ভিত্তিতে পরিণত হয়। এই মানসিকতা মূলত secularism (ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ)-এর স্বাভাবিক পরিণতি, যেখানে স্রষ্টার কর্তৃত্বকে জীবনের কেন্দ্র থেকে সরিয়ে দিয়ে ব্যক্তির ইচ্ছা ও পছন্দকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়। এবং এমন ধারণা প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে যে, অধিক pleasure অর্জনের মধ্যেই প্রকৃত happiness নিহিত।
এর সুযোগকে কাজে লাগিয়ে পুঁজিপতিরা attention economy-র মাধ্যমে profit maximization করে থাকে। পুঁজিবাদী টেক-কোম্পানীগুলোর অ্যালগরিদমগুলো এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যা মানুষের হেডোনিস্টিক (hedonistic) প্রবণতা-তাৎক্ষণিক আনন্দ, তৃপ্তি, উত্তেজনা, ভোগবাদী আকর্ষণ এবং স্বীকৃতি পাওয়ার আকাঙ্ক্ষাকে ক্রমাগত উসকে দেয়। এটি একটি পরিকল্পিত engagement-driven design, যেখানে মানুষের মনস্তত্ত্বকে কাজে লাগিয়ে তাদের আচরণ নিয়ন্ত্রণ করা হয়। ফলে ব্যবহারকারীরা লাইক, কমেন্ট, নোটিফিকেশন বা ছোট ভিডিও থেকে ক্ষণিকের সুখ পায় এবং আবার সেই সুখের সন্ধানে বারবার ফিরে আসে, যা মূলত একটি consumer loop তৈরি করে। এই প্রক্রিয়াটি একটি শক্তিশালী ডোপামিন লুপ তৈরি করে, যেখানে স্বল্পমেয়াদি আনন্দ ব্যবহারকারীদের বারবার প্ল্যাটফর্মে ফিরিয়ে আনে। এটি কেবল একটি অভ্যাস নয়, বরং একটি behavioral conditioning mechanism, যা ব্যবহারকারীদের দীর্ঘ সময় ধরে প্ল্যাটফর্মে আবদ্ধ রাখে। বিশেষ করে কিশোর-কিশোরীরা, যাদের মস্তিষ্ক এখনো বিকাশমান, তারা এই pleasure-driven, profit-oriented ব্যবস্থার প্রতি আরও বেশি সংবেদনশীল হয়ে পড়ে এবং সহজেই এতে জড়িয়ে যায়।
এই পরিস্থিতির সমাধান নিয়ে ভাবতে গেলে কেবল প্রযুক্তিগত বা নীতিগত পদক্ষেপ যথেষ্ট নয়; একটি সঠিক মূল্যবোধভিত্তিক কাঠামো প্রয়োজন। এমন একটি সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা দরকার যেখানে ক্ষতিকর বিষয়-বিশেষত ভোগবাদ এবং বিভ্রান্তিকর চিন্তাধারার বিস্তার প্রতিরোধ করা হবে। এবং প্রযুক্তিকে সঠিক উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা হবে। একমাত্র ইসলামের রাজনৈতিক ব্যবস্থাতে সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য রয়েছে, এবং সেই অনুযায়ী সমাজকে পরিচালিত করা হয়। মানবনির্মিত system মৌলিকভাবে সীমাবদ্ধ-কারণ তা limited knowledge, subjective experience এবং বিভিন্ন cognitive bias দ্বারা প্রভাবিত। অতএব, প্রকৃত ও টেকসই সমাধান সেই সত্তা থেকেই প্রাপ্ত হওয়া যুক্তিযুক্ত, যিনি মানবস্বভাব, প্রয়োজন ও সীমাবদ্ধতা সম্পর্কে পূর্ণ জ্ঞান রাখেন। "তিনিই কি জানবেন না যিনি সৃষ্টি করেছেন?... " (সুরা আল মুলক : ১৪)
- আবু ইউসূফ
