খবর:
রাশিয়া থেকে জ্বালানি তেল কিনতে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা শিথিলের জন্য সে দেশের সরকারকে অনুরোধ জানিয়ে বাংলাদেশের দেওয়া চিঠির জবাব এখনো মেলেনি। চিঠির অগ্রগতি বিষয় জানতে চাইলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র ও যুগ্ম সচিব মনির হোসেন চৌধুরী বলেন, ‘চিঠির জবাব এখনো আসেনি।’ (https://www.rupalibangladesh.com/national-news/130458 )
মন্তব্য:
এই পরিস্থিতি দেখায় যে, দেশের পররাষ্ট্র ও জ্বালানী নীতিতে উপনিবেশবাদীদের নিয়ন্ত্রণ কতটা বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রাকৃতিক গ্যাসের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে মজুদ থাকলেও এলএনজি (LNG) ও ডিজেল আমদানি করে পূরণ করা হয়। ২০২৫ সালে দেশের এলএনজি আমদানি ১০৯টি কার্গো ছাড়িয়েছে, যেখানে খরচ প্রায় US$ 3.88 বিলিয়ন (প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার বেশি)। এই আমদানি‑ভিত্তিক জ্বালানী নীতি, রাষ্ট্রকে বিদেশী বাজারের ওঠাপড়ার ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল অবস্থান তৈরি করেছে।
ধর্মনিরপেক্ষ সংবিধানে রাষ্ট্রের নীতি নির্ধারণে স্রষ্টার কর্তৃত্বকে অগ্রাহ্য করা হয়, ফলে ধর্মনিরপেক্ষ শাসকরা আইন, নিরাপত্তা, সম্পদ ব্যবস্থাপনা, শিক্ষা ও অর্থনৈতিক নীতিতে, ক্ষমতায় টিকে থাকতে, বহিরাগত আন্তর্জাতিক চাপের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে। এই কাঠামোতে রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সিদ্ধান্তগুলো বিদেশি ঋণ, চুক্তি, প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগ (FDI) বা আন্তর্জাতিক বাজারের প্রবাহের ওপর নির্ভরশীল হয়, যা বাংলাদেশকে আমেরিকার পুঁজিবাদী ও নব্য‑ঔপনিবেশিক কাঠামোর অংশে পরিণত করেছে। এই সুযোগে যুক্তরাষ্ট্র তার স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি (interest-based foreign policy) প্রয়োগ করছে। বাংলাদেশে এই প্রভাব বিস্তার করার জন্য তারা ব্যবহার করতে চাইছে NDA (Non-Disclosure Agreement – গোপনীয়তা চুক্তি), ACSA (Acquisition and Cross-Servicing Agreement – সামরিক সহায়তা চুক্তি) এবং GSOMIA (General Security of Military Information Agreement – সামরিক তথ্য নিরাপত্তা চুক্তি)। NDA তথ্যের স্বাধীনতা সীমিত করে, ACSA সামরিক নির্ভরতা বাড়ায়, আর GSOMIA নিরাপত্তা তথ্যের ওপর বিদেশি প্রভাব স্থাপন করে। এই তিনটি চুক্তির মিলিত প্রভাব দেশকে ধীরে ধীরে মার্কিন আধিপত্যবাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবে।
আমাদের আভ্যন্তরীণ দুর্বলতার কারণ হল আমরা ধর্মনিরপেক্ষ জাতিরাষ্ট্রের কাঠামোর দ্বারা পরিচালিত হচ্ছি। ১৯২৪ সালে খিলাফত ধংসের পর উপনিবেশবাদী ও তাদের দালালদের চক্রান্তে মুসলিম ভুমিগুলো ছোট ছোট জাতিরাষ্ট্রে ভাগ হয়ে যায় ও সেখানে ধর্মনিরপেক্ষ ব্যাবস্থার মত আভ্যন্তরীণ দুর্বলতা চাপিয়ে দেয়া হয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ও অন্যান্য মুসলিম ভুমিতে এই অভ্যন্তরীণ দুর্বলতাই ক্ষতি করছে। অতীতে মুসলিমদের সার্বভৌমত্ব পুনরুদ্ধার সম্ভব হয়েছে। যেমন খলিফা নূরুদ্দিন মাহমুদ এবং সালাহউদ্দিন আল‑আইউবি তাদের নেতৃত্বে রাষ্ট্রকে পুনরায় একক খিলাফতের অধীনে একত্রিত করে ইসলামি আদর্শ ও ভিশনের দিকে ফিরিয়েছিলেন। বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে যদি সেই ভিত্তি, ইসলামের রাজনৈতিক ব্যাবস্থা, খিলাফত ব্যাবস্থা পুনঃস্থাপন করা যায়, তাহলে মুসলিম উম্মাহ্’র ঐক্য, সার্বভৌমত্ব, স্বনির্ভরতা এবং নীতি নির্ধারণে স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার সম্ভব। আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তাআ'লা বলেন, "আলিফ-লাম-রা; এই কিতাব, যা আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে তুমি মানুষকে তাদের রবের অনুমতিক্রমে অন্ধকার থেকে আলোর দিকে বের করে আন, পরাক্রমশালী সর্বপ্রশংসিতের পথের দিকে।" (সুরা ইব্রাহিম : ০১)।
- আবু ইউসূফ
