খবর:
রাজধানীর মিরপুরের পল্লবীতে আট বছরের এক শিশুকে ধর্ষণ ও গলা কেটে হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দী দিয়েছেন। (https://www.dailyamardesh.com/court-law/amdnmctf5wx3a)
মন্তব্য:
একটার পরে একটা নৃশংসতম শিশু ধর্ষণের ঘটনা সামনে আসছে। যেন পাল্লা দিয়ে প্রতিযোগিতা হচ্ছে নৃশংসতার। হতভম্ব হওয়ার অনুভূতিও যেন অসাড় হয়ে গেছে সকলের। বুদ্ধিজীবীরা ইউরোপ আমেরিকার উদাহরণ আনতে গিয়েও সুবিধা করতে পারছে না। সে সকল দেশ বরং নৃশংসতার আঁতুড় ঘর। বরং তারা এগুলোকে মেনে নিয়ে শিশু ধর্ষকদের নিয়ে ডকুমেন্টারি বানাচ্ছে। জিমি স্যাভিল (বিবিসির উপস্থাপক ও চ্যারিটি ব্যক্তিত্ব), জেফ্রি এপস্টিন (আমেরিকান কোটিপতি), আর কেলি (গ্রামি জয়ী গায়ক), মাইকেল জ্যাকসন (বিখ্যাত গায়ক), ব্রায়ান পেক (নিকোলেডিয়ান কিড চ্যানেলে বাচ্চাদের সংলাপ কোচ) এরা সবাই রীতিমত ডকুমেন্টারিতে প্রমাণিত কুখ্যাত রোমহর্ষক শিশু ধর্ষক। কি এমন ঘটছে সমাজে যে এরকম প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব থেকে শুরু করে বাংলাদেশের ইয়াবাসক্ত সোহেল রানা পর্যন্ত জঘন্যতম নৃশংসতার প্রতিযোগিতায় নেমেছে!!!
জিমি স্যাভিল থেকে সোহেল রানার একটা জিনিসে মিল আছে, এরা দুইজনই একটা লিবারেল বা উদার রাষ্ট্রে বসবাস করে। রাষ্ট্র তাকে স্বাধীনতা উপভোগ করতে দেয়। কারো ক্ষতি না হওয়া পর্যন্ত কোন বিধিনিষেধ নেই। কিন্তু এই স্বাধীনতা শব্দটা শাব্দিকভাবে যতটা লাগামছাড়া বাস্তবে তা আসলে খুবই সীমাবদ্ধ। গুটিকয়েক পুঁজিবাদী ব্যবসায়ী-ই আসলে নির্ধারণ করে দেয় যে আসলে মানুষ কতটা স্বাধীনভাবে চলতে পারবে। সেই গুটিকয়েক ব্যবসায়ের মধ্যে একটি ব্যবসা গড়ে উঠেছে পুরুষের যৌনাকাঙ্ক্ষাকে কেন্দ্র করে। তাই নারীকে পুরুষের সামনে লোভনীয়ভাবে উপস্থাপনের জন্য ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রি, সিনেমা, পর্ন, আইটেম সং ইত্যাদি দিয়ে উত্তেজিত করে রাখে। এমনকি গাড়ি বিক্রিতে নারী মডেল, শেভিং কিট বিক্রিতে নারী মডেল, গেমিং ইন্টারফেসে নারী অবয়ব ইত্যাদি দিয়ে পুরুষকে সবসময় যৌনতার সাগরে ডুবিয়ে রাখা হয়। পুরুষরা যেন একঘেয়েমিতে না পড়ে, তাই পর্ন ইন্ডাস্ট্রির মাধ্যমে স্টোরি বেইজড সমকামিতাসহ নানা ক্যাটাগরির পর্ন তাদের দেখানো হয়; যার মধ্যে শিশুর সাথে যৌনক্রিয়াও একটা ক্যাটাগরি। এই লিবারেল কাঠামোর পুঁজিবাদী ফাঁদে পড়ে প্রায় প্রত্যেকটা পুরুষ হয়ে দাঁড়িয়েছে একটা প্যাসিভ অথবা একটিভ বিকৃত মন-মানসিকতার যৌন নিপীড়ক। বাবা-মা কুকুর-বিড়াল ভাই-বোন সব সম্পর্কের মধ্যেই সে যৌনতাকেই খুঁজে পায়।
এই ভয়াবহ সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে হলে আমাদেরকে “স্বাধীনতা” বা ফ্রিডম শব্দটার ফাঁদ থেকে বের হতে হবে। ফ্রিডম বলতে যে বিধিনিষেধ থেকে মুক্তির কথা বলা হয় তা দুনিয়ার কোন ধূলিকণা বা প্রাণীর পক্ষে পাওয়া সম্ভব নয়। প্রত্যেকেই তার নিজস্ব বলয়ে পরাধীন বা মুখাপেক্ষী — মানুষও তাই। হয় তাকে পুঁজিবাদী ব্যবসায়ীদের দাস হয়ে থাকতে হবে নইলে তাকে তার প্রকৃত স্রষ্টার দাসত্ব মেনে নিয়ে তার দেয়া বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে — তার চেয়ে কল্যাণকর বিধিনিষেধ কে দিতে পারে!!!
যেমন আল্লাহ্ (ﷻ) পুরুষ ও নারীর যৌনাকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য শুধুমাত্র বিয়ের সমাধান দিয়েছেন। স্বামী-স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোন নারী-পুরুষের প্রতি তার মনোভাব ভাই অথবা বোন ব্যতীত অন্য কিছু হবে না। এটা লিবারেল সমাজের লেন্স দিয়ে দেখলে অবাস্তব মনে হতে পারে। কিন্তু একটা পর্ন ও ‘আইটেম সং’ বিহীন কারণে অকারণে যৌন সুড়সুড়ি না দেয়া সমাজে তা খুবই স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়াবে। এতে করে সমাজে প্রশান্তি বিরাজ করবে। অচিরেই আমরা সেই কাঙ্ক্ষিত সমাজ পেতে যাচ্ছি ইসলামী শাসন খিলাফত প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে।
- জাবির জোহান