‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে জঙ্গি কারখানা হতে দেব না’: শিক্ষামন্ত্রী



খবর:

“আমরা বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করবো না, তাদের স্বাধীনতা দেবো। কিন্তু এমন স্বাধীনতা দেওয়া হবে না যে আরেকটা ‘হলি আর্টিজান’ সৃষ্টি হয়। কিছুতেই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে আর জঙ্গিদের কারখানা হতে দেবো না।” মঙ্গলবার (৫ মে) রাতে ‘বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্যা ও করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। (https://ekattor.tv/capital/90236/বেসরকারি-বিশ্ববিদ্যালয়কে-স্বাধীনতা-দিতে-চাই-তবে)

মন্তব্য:

বাংলাদেশে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলো কখনোই ‘জঙ্গি কারখানা’ ছিল না। বাংলাদেশে ইসলামের নাম ব্যবহার করে সংঘটিত সকল সন্ত্রাসী ও নাশকতামূলক কর্মকান্ডের কারখানা হল মার্কিন দূতাবাস ও ভারতীয় দূতাবাস। তথাকথিত জঙ্গি নাটকের এই গোমড় জনগণ অনেক আগেই জেনে গিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রী প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে জঙ্গি কারখানা বলে তাচ্ছিল্য করলেও, বাস্তবিক অর্থে সেটি এখন মূলত পশ্চিমা উপনিবেশবাদ ও জুলুমের বিরুদ্ধে নেতৃত্বদান ও প্রতিবাদের উর্বর ভূমিতে পরিণত হয়েছে। যা বিগত প্রায় দুই দশকে এই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিকভাবে ইসলামী আদর্শকে সফলভাবে উপস্থাপনের প্রত্যক্ষ ফলাফল। ২০২৪ সালের রক্তাক্ত জুলাই মাসে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ভূমিকা ছিল অনন্য, যা থিতিয়ে যাওয়া আন্দোলনে প্রাণের সঞ্চার করেছিল। নর্থসাউথ ও ব্র্যাকের মত দেশের শীর্ষ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অনন্য অবদানের কারণে পলাতক হাসিনা সরকার আন্দোলন দমন করতে ব্যর্থ হয়। সরকারের শিক্ষামন্ত্রীও হয়ত এই একই ভয় থেকেই প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়কে আগাম কোনঠাসা করার চিন্তা থেকে ‘জঙ্গি কারখানার’ ভুয়া গল্পকে আবার সামনে আনার চেষ্টা করছে।

পুঁজিবাদের ইন্দ্রিয়সুখকেন্দ্রীক জীবনাদর্শ তরুণদের উদ্দম ও জীবনীশক্তিকে কখনোই অনাবিল প্রশান্তি ও মানবজীবনের উচ্চতর লক্ষ্য অর্জনের সুযোগ প্রদান করতে ব্যর্থ। অথচ: তরুণরা জীবনের উচ্চতর লক্ষ্য অর্জন ও প্রশান্তি লাভের জন্য মরিয়া। তাছাড়া, বিশ্ব এখন তরুণদের হাতের মুঠোয়। আধুনিক যোগাযোগ মাধ্যমের কারণে তারা পুরো বিশ্বের খবরাখরব মুহূর্তের মধ্যে পেয়ে যাচ্ছে। ফলে, বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদের ব্যর্থতা ও শোষ সম্পর্কে তারা ওয়াবিকহাল। পশ্চিমা পুঁজিবাদের বুদ্ধিবৃত্তিক দৈন্যতা ও ত্রুটি সম্পর্কে তারা জানে। মুসলিম বিশ্বের উপর পশ্চিমাদের সামরিক আগ্রাসন ও জাতিগত নিধনকে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের তরুণরা ঘৃণাভরে প্রত্যাখান করেছে। এই বাস্তবতায়, ইসলাম যেহেতু মানব প্রকৃতি ও চিন্তার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ, তাই ইসলামের বুদ্ধিবৃত্তিক সৌন্দর্য ও গৌরবময় রাজনৈতিক ইতিহাস বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মার্ট ও বুদ্ধিমান তরুণদেরকে ক্রমবর্ধমানহারে আকৃষ্ট করছে। সেকেলে কর্মকান্ড ও লাগামছাড়া কথাবর্তা বলে ব্যাপক ট্রলের মুখে থাকা শিক্ষামন্ত্রী স্পষ্টতই এই স্মার্ট ও বুদ্ধিমান তরুণদের ইসলাম-মুখী প্রবণতাকে বাধাগ্রস্থ করতে অত্যন্ত শ্রুতিকটূ-ভাবে ‘জঙ্গি’ শব্দটি উচ্চারণ করেছেন। 

যেকোন সামগ্রীক ও আমূল পরিবর্তনে দেশের উচ্চবিত্ত শেণী খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। বাংলাদেশের শীর্ষ প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের বড় একটা অংশ দেশের উচ্চবিত্ত শ্রেণীর প্রতিনিধি। ফলে, সেকুলার পুঁজিবাদকে বিদায় করে দিয়ে ইসলামী খিলাফত শাসনব্যবস্থাকে ফিরিয়ে আনার বুদ্ধিবৃত্তিক ও রাজনৈতিক কর্মসূচীতে প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর শিক্ষার্থীদের ভূমিকা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তাদেরকে বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করতে হবে। খিলাফতের প্রত্যাবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশের প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যায়গুলো বিশ্বমানের বিজ্ঞানী, গবেষক ও পেশাজীবি তৈরীর পাশাপাশি রাষ্ট্রের জন্য ‘আদর্শ রাজনীতিবিদ’ ও মুসলিম উম্মাহ্‌’র ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব তৈরীর কারখানায় পরিণত হবে। এবং সেদিন খুব বেশি দূরে নয়, ইনশা‘আল্লাহ্‌।

    -    রিসাত আহমেদ

Previous Post Next Post