খবর:
বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্যচুক্তিটি নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হচ্ছে। বলা হচ্ছে এতে বাংলাদেশের ওপরই বেশি শর্ত আরোপ হয়েছে। এ নিয়ে আলোচনাকে স্বাগত জানালেও সমালোচনা করার আগে অন্য দেশগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের একই ধরনের চুক্তিগুলো দেখে নেওয়ার পরামর্শ দিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান। (https://www.prothomalo.com/bangladesh/danb9g644m)
মন্তব্য:
বাণিজ্য চুক্তির নামে বাংলাদেশের শিল্প-বাণিজ্য-কৃষি, সাইবার সিকিউরিটি, অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা এবং সামরিক বাহিনীর উপর উপনিবেশবাদী মার্কিনীদের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠাকে ন্যায্যতা দিতে যখন খলিল সাহেবরা ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম আর কম্বোডিয়ার উদাহরণ দিচ্ছেন তখন তাকে একজন স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর চেয়ে একজন নিয়োগপ্রাপ্ত “ইকোনোমিক হিটম্যান” হিসেবেই বেশি মানানসই মনে হচ্ছে। তিনি যদি তা নাই হতেন, তাহলে কারা কারা তার মত দাসত্বের চুক্তি করে রাষ্ট্রের জনস্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়েছে- সেই গল্প না করে মালয়েশিয়া আর ব্রাজিলের মত দেশগুলো কিভাবে এবং কি যুক্তি দিয়ে এ ধরনের অপমানজনক ‘রিসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (ART) থেকে বের হয়ে এসেছে সেই উদাহরণ দিতেন এবং রাষ্ট্রীয় স্বার্থে এই চুক্তি থেকে বের হওয়ার পথ দেখাতেন। ২০২৫ সালের ২৬ অক্টোবরে করা ‘রিসিপ্রোকাল ট্রেড এগ্রিমেন্ট’ (ART) থেকে মালয়েশিয়া ৫ মাস পর ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ এই চুক্তিটিকে ‘বাতিল ও অকার্যকর’ (Null and Void) ঘোষণা করে বের হয়ে আসে। মালয়েশিয়া যুক্তি দেয় যেখানে যুক্তরাষ্ট্রের নিজস্ব উচ্চ আদালতই এ ধরনের চুক্তিকে অবৈধ ঘোষণা করেছে, সেখানে এ ধরনের চুক্তির গ্রহণযোগ্যতা প্রশ্নসাপেক্ষ। ব্রাজিল এই চুক্তির একপেশে মার্কিন আধিপত্যের কারণে প্রথমেই একে নাকচ করে দেয়।
এই ধরনের চুক্তি থেকে বের হওয়ার এত এত লুপহোল থাকা সত্ত্বেও যখন খলিলুর রহমান কিংবা ক্ষমতালোভী দালাল রাজনীতিবিদরা এটিকে একটা গ্রহণযোগ্য চুক্তি হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন, তখন বোঝাই যায় যে তারা সচেতনভাবে বাংলাদেশের ধর্মপ্রাণ মুসলিম প্রতিবাদি জনগোষ্ঠীর মাঝে ঘৃণ্য আমেরিকার প্রতি এক ধরনের Slave Psychology ইন্সটল করতে চান। তারা বোঝাতে চান আমেরিকা ঘৃণ্য হলেও অপ্রতিরোধ্য, তাকে প্রভু মেনে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ!
বাংলাদেশের নবনির্বাচিত সরকারের উচিত খলিলুর রহমানের মত নিয়োগকৃত হিটম্যানের Slave Psychology ইন্সটল করার পররাষ্ট্র নীতিতে প্রভাবিত না হয়ে, দেশের মানুষের বিশ্বাস ও আবেগ থেকে শক্তি নেয়া- যা হল ইসলাম। মদিনা যখন একটি ছোট রাষ্ট্র, তখন তৎকালীন বিশ্বের দুই সুপারপাওয়ার ছিল রোম (বাইজেন্টাইন) এবং পারস্য (সাসানীয়)। রাসূলুল্লাহ্ (সাঃ) ক্ষুদ্র মদিনার শাসক হিসেবে পরাক্রমশালী সম্রাট হিরাক্লিয়াস এবং খসরু পারভেজের কাছে সরাসরি ইসলামের দাওয়াত পাঠিয়েছিলেন। তিনি তাদের সামরিক বা অর্থনৈতিক শক্তির তোয়াক্কা করেননি। এটি প্রমাণ করে যে, ইসলামি পররাষ্ট্রনীতিতে কোনো পরাশক্তিকে ভয় পাওয়ার অবকাশ নেই, কারণ বড়-ছোট সব রাষ্ট্রের ঊর্ধ্বে একমাত্র আল্লাহ্ সুবহানাহু ওয়া তা’আলার ক্ষমতা।
“…এবং কিছুতেই আল্লাহ্ মু’মিনদের উপর কাফিরদের কর্তৃত্বকে মেনে নেন না” (সূরা নিসা ১৪১)।
- জাবির জোহান
