“যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য নীতি পছন্দ করেন না মার্কিন তরুণরা”: জেডি ভ্যান্স




খবর:

যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স জর্জিয়ার এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তীব্র বিক্ষোভের মুখে স্বীকার করেন যে তরুণ মার্কিন ভোটাররা তাদের সরকারের মধ্যপ্রাচ্য নীতি পছন্দ করেন না। জর্জিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে টার্নিং পয়েন্ট ইউএসএ-এর আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্যের সময় শ্রোতাদের একটি অংশ হঠাৎ চিৎকার করে তার বক্তব্য থামিয়ে দিয়ে বলেন, “যিশু খ্রিস্ট গণহত্যাকে সমর্থন করেন না!” —এরপর আরো কয়েকজন বলেন “আপনারা শিশু হত্যা করছেন এবং গাজায় শিশুদের ওপর বোমা ফেলছেন”। পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে তিনি উপস্থিত দর্শকদের উদ্দেশে বলেন, ‘শুধু সমালোচনা না করে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া উচিত’। এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটলো, যখন ট্রাম্প প্রশাসনের যুদ্ধনীতি নিয়ে তার সমর্থকদের মধ্যেই অসন্তোষ বাড়ছে (https://www.dailyamardesh.com/world/middle-east/amdnetcvzmzhr)

মন্তব্য:

বিশ্বব্যাপী পতনের মুখে থাকা আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পুঁজিবাদী সাম্রাজ্য প্রতিনিয়ত তার চূড়ান্ত পতনের বিভিন্ন লক্ষন প্রকাশ করে যাচ্ছে। বিগত দুই দশকে আফগানিস্তান ও ইরাক যুদ্ধের পরাজয়ের পর এখন ইরান যুদ্ধে অপমানজনকভাবে অপদস্ত হওয়ার মাধ্যমে উত্তর আমেরিকা মহাদেশের এই আগ্রাসী দেশটির সামরিক সক্ষমতার অপরাজেয়তার বেলুন চুপসে গিয়েছে ও বিশ্বব্যাপী তাদের সামরিক আধিপত্যের পতনের ঘন্টাধ্বনী বেজে উঠেছে। পাশাপাশি, ২০২৬ সালের শুরুতে ৪১.১ ট্রিলিয়ন (৪১,১০০ বিলিয়ন) ডলারের জাতীয় ঋণ ও তাদের ইতিহাসের ভয়াবহতম ৫৩.৬% মূল্যস্ফিতির (২০১০ সালকে base-year ধরে) বোঝা নিয়ে ধুঁকছে পৃথিবীর তথাকথিত নেতৃত্বশীল দেশটি। তাছাড়া, সম্প্রতি ইরান যুদ্ধ চলাকালীন আর্মি চিফ সহ আরো কয়েকজন শীর্ষ ৪ ‍তারকা জেনারেলকে বরখাস্ত করার ঘটনা, একজন শীর্ষ গোয়েন্দা কর্মকর্তার পদত্যাগ, ট্রাম্পের অসংলগ্ন কথাবর্তা ও অধীনস্তদের উপর প্রকাশ্য দায় চাপানোর ঘটনাগুলো দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের সাথে সামরিক নেতৃত্বের বিরোধের বিষয়টি প্রথমবারের মত প্রকাশ্যে এনেছে এবং দীর্ঘদিন ধরে আদর্শ রাষ্ট্রের মুখোশ পরে বিশ্বের উপর ছড়ি ঘুরানো দেশটির রাজনৈতিক ব্যবস্থায় ফাঁটল ও পতনের জোড়ালো ইঙ্গিত দিচ্ছে।

গাজায় গণহত্যার মূল কারিগর হিসেবে নিজ দেশের জনগণের মধ্যে ব্যাপক প্রতিবাদ ও আন্দোলন ছড়িয়ে পরার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরকার তা ব্যাপক বলপ্রয়োগের মাধ্যমে দমন করেছিল। কিন্তু সেই প্রতিবাদের ধারাবাহিকতা এখনো বিদ্যমান। গাযার গণহত্যা ও শিশুহত্যা নিয়ে প্রতিবাদের মুখে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স মার্কিন সরকারের তরফে দোষ স্বীকার, ক্ষমা চওয়া কিংবা তার দেশের জনগণের অভিপ্রায় অনুসারে ব্যবস্থা নেওয়ার অঙ্গীকার না করে বরং বলেছে, ‘প্রতিবাদকারীদের শুধু সমালোচনা না করে সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে যুক্ত হওয়া উচিত’। এর অর্থ হল জেডি ভ্যান্স প্রচ্ছন্নভাবে স্বীকার করে নিচ্ছে যে মার্কিন সরকার কখনোই সেদেশের জনগণের অভিপ্রায় অনুসারে এসকল অন্যায় যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধ করবে না; এবং ঠাট্টাচ্ছলে বলেছে, মার্কিন প্রতিবাদি জনগণ তা বন্ধ করতে চাইলে তারা রাজনীতিতে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে সরকার গঠনের মাধ্যমে রাষ্ট্রের এই অন্যায় সিদ্ধান্তকে পরিবর্তনের চেষ্টা করে দেখতে পারে! অর্থাৎ, মার্কিন পুঁজিবাদী শাসনব্যবস্থার মধ্যে এসকল অন্যায় যুদ্ধ ও গণহত্যা বন্ধ করার কোন অঙ্গীকার এবং এই বিষয়ে মার্কিন শাসকদেরকে জবাবদিহিতার কোন আইনী বিধান নেই। ফলে, সরকারের বিরুদ্ধে ক্রমশ অসহিষ্ণু হয়ে উঠা এই মার্কিন জনগণ উত্তর আমেরিকা মহাদেশের এই দেশটির রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অভ্যন্তরীন দুর্বলতার পরিচয় বহন করছে।

তবে, বিশ্বব্যাপী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যের পতনের সবচেয়ে বড় নিদর্শন হল বিশ্বব্যাপী পুঁজিবাদী বৃদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্বের ব্যর্থতা ও পরাজয়। পুঁজিবাদী বৃদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব বিশ্বের অর্থনৈতিক কিংবা ভূরাজনৈতিক কোন সমস্যার সমাধান করতে পারছে না; বরং সচেতন ব্যক্তিমাত্রই জানেন যে এই সমস্যাগুলো পুঁজিবাদী নীতির ফলেই সৃষ্টি হয়েছে। ফলে, সভ্যসমাজ ও বিশ্বের মুক্তিকামী জনগণের কাছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোন গ্রহনযোগ্যতা অবশিষ্ট নেই। খোদ মার্কিন প্রশাসনও তা জানে; যার জন্যই তারা বিশ্বব্যাপী ভীতি সৃষ্টির ব্যর্থচেষ্টা করে যাচ্ছে ও তাদের সর্বোচ্চ নেতা (ট্রাম্প) আবোল-তাবোল বলছে। তবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য পতনুন্মুখ হলেও বিকল্প বৃদ্ধিবৃত্তিক নেতৃত্ব ও আদর্শ হিসেবে খিলাফত ব্যবস্থার উত্থান না ঘটলে এর চূড়ান্ত পতন হবে না। বাংলাদেশের সচেতন জনগণ ও জনগণের কল্যানের প্রতি দায়বদ্ধ “শক্তিমত্তা ও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অধিকারী” ব্যক্তিদের উচিত ইতিহাসের এই সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে খিলাফত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় দ্রুত অগ্রসর হওয়া, অন্যকোন মুসলিম ভূখন্ড এই মর্যাদা লুফে নেওয়ার পূর্বেই!

     -    রিসাত আহমেদ

Previous Post Next Post