"দেশে জঙ্গি আছে এটা শূন্যে আনার চেষ্টা করবে সরকার": জাহেদ উর রহমান



খবর:

দেশে জঙ্গি আছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছেন, সরকার এটাকে শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে। মঙ্গলবার সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে উপদেষ্টা এ কথা বলেন।… (https://www.jugantor.com/tp-firstpage/1095138)

মন্তব্য:

পশ্চিমা কুফর উপনিবেশবাদী শক্তি কর্তৃক দীর্ঘমেয়াদী রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক ষড়যন্ত্রের ফলে অবশেষে যখন ১৯২৪ সালে খিলাফত ধ্বংস হলো, তখন মুসলিমগণ স্বাভাবিকভাবেই এটা মেনে নিতে পারেননি। আর তাই দেশে দেশে মুসলিমদের মধ্যে বিভিন্ন অংশে সেটি পুনরুদ্ধারে বিভিন্ন পদ্ধতিতে খন্ড খন্ড প্রচেষ্টা চালতে থাকে। কেউ অস্ত্র তুলে নেয়, কেউ ইসলামের ভিত্তিতে রাজনৈতিক সংগ্রামী লিপ্ত হয়, আবার কেউ পুঁজিবাদী গণতান্ত্রিক ভিত্তিতে ইসলামি ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় প্রচেষ্টা চালাতে থাকে। কিন্তু সেই প্রচেষ্টাগুলো সাইকস-পিকো চুক্তির দ্বারা জাতিরাষ্ট্রে খন্ড-বিখন্ড হয়ে যাওয়া মুসলিম রাষ্ট্রগুলোর পশ্চিমা অনুগত শাসকদের দ্বারা কিংবা সরাসরি পশ্চিমাদের দ্বারা চরমভাবে দমনের শিকার হয়। সেই সাথে ইরাক, আফগানিস্থান, ফিলিস্তিন, কাশ্মীর, আরাকানসহ সমগ্র মুসলিম বিশ্বের চলমান একের পর এক গণহত্যার কারণে মুসলিমদের হৃদয় আরও ব্যথিত হয়, যা আন্দোলনরত দলগুলোকে আরো পশ্চিমাবিদ্বেষী করে তোলে। এরই প্রতিক্রিয়াস্বরূপ দেশে দেশে এই আন্দোলনগুলোর একটা অংশ পশ্চিমা স্বার্থে আঘাত হানার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন হামলা চালাতে থাকে। পশ্চিমা কুফর শক্তিগুলোও বিভিন্ন সময়ে এসব আন্দোলনগুলোতে অনুপ্রবেশ করে সেগুলোকে নিজেদের স্বার্থে ব্যবহার করতে থাকে। এক কথায় পশ্চিমা কুফর শক্তি কর্তৃক খিলাফতকে ধ্বংস করা এবং মুসলিমদেরকে নিপীড়ন, তার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ বিভিন্ন সহিংস আন্দোলনের জন্ম, সেগুলোকে পুঁজি করে এমনকি অনেক সময় সেগুলোতে অনুপ্রবেশ করে পশ্চিমাদের স্বার্থ উদ্ধার, এই হচ্ছে বিশ্বজুড়ে পশ্চিমা কুফরশক্তি কর্তৃক আখ্যায়িত তথাকথিত ‘সন্ত্রাসবাদ’ কিংবা ‘জঙ্গিবাদ’। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশেও চলেছে জঙ্গি নাটকের মঞ্চায়ন। এরপর সেই জঙ্গিবাদ দমনের নামে চলছে নিরীহ মুসলিমদেরকে হত্যা এবং নিপীড়ন। যা বর্তমানে ‘উগ্রবাদ’ হিসেবে আখ্যায়িত করা হচ্ছে সরকারের বিভিন্ন অংশের দ্বারা। 

দুঃখের বিষয় হলো, এতসব কিছু বোঝার পরেও পশ্চিমাদের কর্মকান্ড দ্বারা বিমোহিত এদেশের শাসক ও বুদ্ধিজীবীদের একাংশ, মুসলিমদের মধ্যে গড়ে ওঠা এসব আন্দোলনগুলোকে পশ্চিমাদের মতোই ‘সন্ত্রাসবাদ’, জঙ্গিবাদ, উগ্রবাদ ইত্যাদি আখ্যা দিয়ে বিভিন্ন উপায়ে দমন নিপীড়নের পথ বেছে নেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেয়। অথচ এসব আন্দোলনের উৎপত্তি হলো পশ্চিমাদের দ্বারা পরিচালিত শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে ইসলাম ও মুসলিমবিরোধী ঘৃণিত কর্মকাণ্ড, সেটা খিলাফত ধ্বংসের ক্ষেত্রে হোক কিংবা বিশ্বে মুসলিমদের বিরুদ্ধে পরিচালিত গণহত্যাই হোক না কেন। এসব বুদ্ধিজীবীরা এতটাই সেন্সহীন হয়ে পড়েছে যে, পশ্চিমারা যখন মুসলিমদের গণহত্যা করে, তখন সেখানে কোন অন্যায় খুঁজে পায় না, বরং পশ্চিমাদের গণহত্যার প্রতিক্রিয়া স্বরূপ মুসলিমরা যখন প্রতিক্রিয়া দেখায় তখন তারা সেখানে জঙ্গিবাদ খুঁজে পায়। 

আশার কথা হল শাসক ও বুদ্ধিজীবীদের এই অংশের সেন্স হারিয়ে গেলেও মুসলিমরা কিন্তু তাদের সেন্স হারায়নি। এত এত ষড়যন্ত্র ও দমন-নীপিড়নের ফলেও তাদের শক্তি একটুও কমেনি, বরং যত সময় যাচ্ছে, তা বেড়েই চলেছে। তাই শাসক ও বুদ্ধিজীবদের এই অংশে নিজ চেষ্টায় যদি সেন্স ফেরত না আসে, মুসলিমগণ কিন্তু তা ফেরত এনে দিতে প্রস্তুত! কিন্তু ততক্ষণে হয়তো বিষয়টি তাদের জন্য দেরি হয়ে যাবে, যেটা বিগত হাসিনা সরকারের সাথে হয়েছে, যে হাসিনা পশ্চিমাদের তুষ্ট করার জন্য তাদের দেখানো পথে ‘জঙ্গি’ আখ্যা দিয়ে ইসলাম ও মুসলিমদের দমন নিপীড়ন ও হত্যাযজ্ঞে বর্তমান শাসকদের চেয়ে অনেক বেশি পারদর্শী ছিল। তাই দেরি হয়ে যাওয়ার আগেই শাসক-বুদ্ধিজীবীদের এই অংশের পশ্চিমা কুফর শক্তির বিরুদ্ধে এবং ইসলাম ও মুসলিমদের পক্ষে অবস্থান গ্রহণ করা উচিত, পশ্চিমারা তাদের যতই চাপ দিক না কেন। এরং তাদের ইসলামী ব্যবস্থা তথা আল্লাহ’র রাসূল (সাঃ) প্রতিশ্রুত নবুয়্যতের আদলে খিলাফত ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনায় আন্দোলনরত মুসলিমদের পক্ষে অবস্থান গ্রহন করা উচিত। তাহলে মুসলিম বিশ্ব থেকে  পশ্চিমা কর্তৃত্বের অবস্থান অবসান হবে। 

    -    মোঃ জহিরুল ইসলাম

Previous Post Next Post