“ঢাকায় বিশেষ রিকশায় মার্কিন রাষ্ট্রদূত, যে বার্তা এল”



খবর:

যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপনের অংশ হিসেবে ঢাকার রাস্তায় বিশেষ রিকশা চালু করা হয়েছে।… পোস্টে ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন লিখেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন লাল, সাদা ও নীল রঙের ৫০টি বিশেষ রিকশা উদ্বোধন করেছেন। এই উদ্যোগের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতা উদযাপনের পাশাপাশি বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার অংশীদারত্বের প্রতিফলন তুলে ধরা হয়েছে।… (https://rtvonline.com/capital/382265)

মন্তব্য:

মার্কিন রাষ্ট্রদূতের রিক্সা চালানোর নাটক দেখে বিমোহত হওয়ার কিছু নাই, এটাকে তাদের ভাষায় বলে ‘সফট পাওয়ার’। এগুলো করে সাধারণ মানুষকে দেখাতে চায় যে, তারা উপনিবেশিক শোষক নয়, বরং তারা বন্ধু। যাতে এদেশের মানুষের মধ্যে মার্কিন নীতির প্রতি অবচেতনভাবেই একটি ইতিবাচক মনোভাব তৈরি হয় এবং জনগণের মধ্যে মার্কিন বিদ্বেষ কমে যায়। এ সফট পাওয়ারের নাটক তারা বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রাষ্ট্রে মঞ্চস্থ করে থাকে। যেমন, ভারতে নিযুক্ত সাবেক মার্কিন রাষ্ট্রদূত ন্যাথানিয়েল ফিক দিল্লীর রাস্তায় অটোরিক্সা চালিয়েছেন। বারাক ওবামা ভিয়েতনামে গিয়ে রাস্তায় টুলে বসে শুকরের মাংস দিয়ে বানানো নুডুলস (বুন চা) খেয়েছেন। তারা আফ্রিকায় গিয়ে আদিবাসীদের সাথে নাচে, দক্ষিণ কোরিয়ায় গিয়ে কে-পপ কনসার্টে গিয়ে নাচে, আবার সৌদি আরবে গিয়ে জোব্বা পরে হাঁটু গেড়ে ইফতার পার্টিতে ইফতার খায়। 

এই হচ্ছে তাদের তথাকথিত সফট পাওয়ার চর্চার উদাহরণ। যেগুলোকে এক কথায় ‘মুনাফেকি’ ছাড়া আর কিছুই বলা যায় না। কারণ বাংলাদেশের ক্ষেত্রেই আমরা দেখি যে, একদিকে তারা সাংস্কৃতিক মেলবন্ধন এর নামে দেশের দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত মানুষের জীবিকা ও বাহন ‘রিকশা’ চালানোর নাটক করে, অন্যদিকে সেই দরিদ্র ও মধ্যবিত্তদের পেটে লাথি মারার জন্য তাদের অন্যায্য বাণিজ্য চুক্তি চাপিয়ে দেয়। যার কারণে দেশের আরএমজি সেক্টরের কাঁচামাল আন্তর্জাতিক বাজারের চাইতেও উচ্চ মূল্য তাদের কাছ থেকে কিনতে হবে। যেটার কারণে উৎপাদন খরচ বেড়ে গিয়ে অনেক শ্রমিক কাজ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছেন। চুক্তির শর্ত অনুযায়ী, তাদের কাছ থেকে ক্ষতিকর ও সস্তা জিএমও বীজ ও কৃষিপণ্য কিনতে হবে, যেখানে একদিকে যেমন দেশীয় কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে দেশীয় জাত ধ্বংস হবে। সেই সাথে স্বাস্থ্য সমস্যাও প্রকট আকার ধারণ করবে। কারণ জিএমও পণ্যগুলোর ব্যাপারে বিশ্বজুড়েই দীর্ঘমেয়াদে এলার্জি, অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্স ও অন্যান্য জটিল রোগ সৃষ্টির অভিযোগ রয়েছে। 

তাই তাদের হীন সফটপাওয়ার চর্চার এই সকল মুনাফেকী আচরণের ব্যাপারে আমাদের সর্বদা সতর্ক থাকতে হবে এবং রাষ্ট্রের কর্তাব্যক্তিদের উপর চাপ প্রয়োগ করতে হবে, যেন তারা আমাদেরকে উপনিবেশবাদী মার্কিনীদের খেলার পাত্রে পরিণত না করে।

ইসলামের পররাষ্ট্রনীতি অনুযায়ী, মুসলিমদের সাথে যুদ্ধরত শত্রুরাষ্ট্রের কূটনীতিকরা জনগণের সাথে মেলামেশা করার সুযোগ পাওয়াতো দূরে থাক, তাদের দূতাবাস নামক ‘শয়তানী চক্রান্তের আখড়া’রই কোন অস্তিত্ব থাকার সুযোগ নাই। শত্রুরাষ্ট্রের দূতেরা যদি কোন প্রয়োজনে অনুমতিক্রমে প্রবেশও করে, তাহলে তারা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে থাকবে। তাদের অর্থায়নে পরিচালিত এনজিওগুলো যারা সাধারণ মানুষের মধ্যে পশ্চিমাদৃষ্টিভঙ্গির প্রচার করে থাকে, সেগুলোকে নিষিদ্ধ এবং বিলুপ্ত করা হবে। তাছাড়া ইসলামে জনগণের মৌলিক চাহিদাগুলো নিশ্চিত করা শাসকের জন্য অত্যাবশ্যকীয় দায়িত্ব — এতে করে ইসলামের শত্রুরা নাগরিকদের দরিদ্রতাকে তাদের হীন স্বার্থে উদ্ধারে কাজে লাগাতে পারে না।

    -    মোঃ জহিরুল ইসলাম


Previous Post Next Post