খবর:
বিশ্বকাপের ডামাডোলে ‘সাদা পতাকা’ প্রদর্শন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেমন নানামুখী আলোচনা চলছে, তেমনি তৈরি হয়েছে বিতর্কও। পতাকা টাঙানোয় সংশ্লিষ্টদের দাবি, এগুলো কোনো রাজনৈতিক সংগঠন বা গোষ্ঠীর পতাকা নয়; বরং ইসলামের কালিমাসংবলিত একটি নিশান। তবে নিরাপত্তা বিশ্লেষক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞ এবং ব্যবসায়ী নেতাদের অনেকে মনে করছেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে এ ধরনের বিশেষ ডিজাইনের পতাকা বা প্রতীক ভুল বার্তা দিতে পারে। তাদের আশঙ্কা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ও গণমাধ্যমে এটি বিভিন্ন উগ্রবাদী গোষ্ঠীগুলোর ব্যবহৃত প্রতীকের সমার্থক হিসেবে বিবেচিত ও উপস্থাপিত হতে পারে। আর সেক্ষেত্রে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে দেশের ভাবমূর্তি, বিদেশী বিনিয়োগ আকর্ষণ ও প্রবাসী শ্রমবাজারে। (https://www.bonikbarta.com/bangladesh/AqFeiMBBkVwC7Za6)
মন্তব্য:
মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ এদেশের মানুষের বিশ্বাসের প্রতীক কালিমা নিয়ে পতাকা ওড়ালে তা কেন এত তীব্র প্রতিক্রিয়ার স্বীকার হবে? কেন উল্লেখিত সংবাদের শিরোনাম “কালিমা পতাকা” না লিখে “সাদা পতাকা” করা লাগল? কেন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞ, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞ, শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞ এবং বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞরা সবাই আন্তর্জাতিক মহলের ভয়ে কম্পিত?
এই প্রশ্নের উত্তর পেতে হলে আমাদের জানতে হবে আসলে “সাদা পতাকা”য় কি লেখা আছে? “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু মুহাম্মাদুর রাসূলুল্লাহ্”। অর্থ- আল্লাহ্ ছাড়া কোন ‘ইলাহ’ (প্রভু, আইনদাতা) নেই এবং মুহাম্মাদ (ﷺ) আল্লাহ্’র প্রেরিত রাসূল। ‘ইলাহ্’ বলতে এখানে বোঝানো হয় সেই সত্তাকে যিনি শুধুমাত্র ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানেরই প্রভু নন, বরং সামাজিক, অর্থনৈতিক, বিচার ব্যবস্থা, পররাষ্ট্র সম্পর্ক সহ সকল বিষয়ের প্রভু অর্থাৎ আইন ও নীতি প্রণেতা, পশ্চিমারা নন। এই ‘ইলাহ্’ কিভাবে বাস্তবায়িত হবে সেটার একমাত্র অনুসরণীয় মডেল হচ্ছেন রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ)-যা তিনি (ﷺ) তাঁর জীবদ্দশায় দেখিয়ে গেছেন এবং তা ১৯২৪ সাল পর্যন্ত বিশ্বের বুকে খিলাফত শাসনব্যবস্থা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত ছিল। এই হল কালিমার বার্তা।
এই সমাজ কি কালিমার বার্তা দিয়ে চলছে? না! এটি চলছে স্রষ্টাবিবর্জিত চিন্তার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা পশ্চিমা পুঁজিবাদী জীবনব্যবস্থা দিয়ে। যেখানে, ইলাহ্ হচ্ছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এবং তাদের অনুগত শাসকগোষ্ঠী-যারা মুসলিম বিশ্বের আইনি কাঠামো তৈরি করে। তাই, কালিমা পতাকা পশ্চিমা ভাবাদর্শের কাছে একটা সাধারণ পতাকা না, বরং এটা একটা পুরোপুরি বিপরীতমুখী আদর্শিক পতাকা। যার কারণে, পশ্চিমা ও তার দালালগোষ্ঠী বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে মোকাবেলা করতে না পেরে এই পতাকাকে পতিত সরকারের মত বিভিন্ন ট্যাগ লাগানোর চেষ্টা করছে। জনগণ কার আধিপত্য মানবে? আল্লাহ্ (ﷻ) প্রদত্ত ব্যবস্থার নাকি পশ্চিমা মানবরচিত ব্যবস্থার? পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থার ধারক বাহকরা কখনোই চান না এই বিতর্ক বুদ্ধিবৃত্তিকভাবে সামনে আসুক। তাই তারা কখনো নিরাপত্তার ভয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের গোস্যার ভয়, বিদেশী বিনিয়োগ না আসার ভয় ইত্যাদি নানাকিছুর ভয় দেখিয়ে মূল আলোচনাকে আড়ালে রাখতে চান।
পুরো বিশ্বব্যাপী মুসলিমদেরকে এই আলোচনাকে সামনে নিয়ে আসার জন্য প্রচেষ্টা জারি রাখতে হবে। আমাদের মনে রাখা দরকার যে, যুগে যুগে আবু জেহেলরা কখনোই কালিমার বার্তা মেনে নিতে পারেনি। কারণ, এতে আল্লাহ্ (ﷻ) প্রদত্ত ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠা হয় এবং আবু জাহেলদের জুলুম-লুটপাটের শাসনের অবসান হয়। তাই, আন্তর্জাতিক মহল ও তাদের তাবেদাররা কালিমা যেন বাস্তবায়ন না হয় তার জন্য সবসময় তৎপর থাকে। তাই, এই পরিস্থিতিতে আমাদেরকে ঠিক তাই করতে হবে যা রাসূলুল্লাহ্ (ﷺ) করেছিলেন। তিনি (ﷺ) যেভাবে সমাজের প্রত্যেকটা বৈপরীত্যকে উন্মোচন করে দিতেন, ঠিক একই রকমভাবে আমাদেরও এই অন্তঃসারশূণ্য পশ্চিমা ধর্মনিরপেক্ষ জীবনব্যবস্থার বৈপরীত্যও সমাজে তুলে ধরতে হবে। কালিমার পতাকার মত কালিমার বার্তা বাস্তবায়নের জন্য আমাদের সদা প্রস্তুত থাকতে হবে। “...সার্বভৌমত্ব শুধু আল্লাহ্’র” [সূরা ইউসুফ : ৪০]
- জাবির জোহান
